করোনার টিকাঃ ইতিহাস হয়ে থাকছেন নার্স রুনু

 

সেবিকা দেবনাথ ঃ একটু পরপরই বেজে ওঠছে রুনুর মোবাইল ফোনটা। বন্ধু, স্বজন ও সহকর্মীরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আর গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইছেন তার অনুভূতি। সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত। ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা রুনু যখন পারছেন সবার উত্তর দিচ্ছেন। এদিকে তার ব্যস্ততাও কম নয়। হাসপাতালে জরুরি তলব, মহড়ায় অংশ নেয়া, নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাসহ নানান ব্যস্ততা। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রুনুর জীবন যেনো বদলে গেলো। পরিচিত রুটিনটা হয়ে গেলো ভিন্ন।

রুনু বেনোরিকা কস্তা। গাজীপুরের মেয়ে রুনু কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ডায়ালাইসিস ইউনিটের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন। দেশের ইতিহাসে প্রথম করোনার টিকা নিতে যাচ্ছেন রুনু। ব্যক্তিজীবনে রুনু দুই সন্তানের জননী। ২০১৩ সালে কুর্মিটোলা হাসপাতালে যোগদান করেন রুনু। এর আগে ছিলেন ইউনাইটেড হাসপাতালে।

প্রথম টিকা নিতে কেনো আগ্রহী হলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে রুনু ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে সম্মুখসারির যোদ্ধা। আমাদের তো পিছিয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একজন নার্সকে যাতে প্রথম টিকা দেয়া হয়। আর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আমাদের হাসপাতাল ভালো করেছে বলে এই হাসপাতালেই যাতে টিকা দান কর্মসূচি শুরু হয় এমন নির্দেশনা ছিলো। এই সংবাদটি জানার পর আমি নিজে থেকেই টিকা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। ইতিহাসের সাক্ষী হতে কে না চায় বলুন?

রুনুকে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালক ডেকে পাঠান। টিকা দেয়ার কর্মসূচি শুরুর আগে হাসপাতালে একটি মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে অংশ নিয়েছিলেন রুনুও।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রুনুর সঙ্গে আরো দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স মুন্নী খাতুন ও রিনা সরকারও টিকা নেবেন। তবে রুনুই প্রথম ব্যক্তি যিনি দেশে করোনা টিকা দান কর্মযজ্ঞের প্রথম অংশগ্রহণকারী হবেন। -*ভোরের কগজের সৌজন্যে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।