Skip to content

কম খরচে হোক বিদেশ ভ্রমণ, রইল ভূটানের অফবিট জায়গাগুলি…

কম খরচে হোক বিদেশ ভ্রমণ, রইল ভূটানের অফবিট জায়গাগুলি...

Traveling in Bhutan-এর কথা উঠলে প্রথমেই নাম ওঠে রাজধানী থিম্পুর। এছাড়াও দেশের প্রধান শহর পারো থাকে বেড়ানোর তালিকায়। ফলে পর্যটকদের ভিড় এই সব স্থানেই বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু সেদেশেও যে বেশ কয়েকটি অফবিট স্থান রয়েছে তার খবর অনেকেই কম রাখেন। বিশেষ করে ভুটানের পূর্বাংশ নিরিবিলিতে ভরা। অফবিট জায়গা কিংবা অ্যাডভেঞ্চারের স্পট হিসেবে এই অংশ একেবারে অনবদ্য।




© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
Traveling in Bhutan: কম খরচে হোক বিদেশ ভ্রমণ, রইল ভূটানের অফবিট জায়গাগুলি…

Traveling in Bhutanহোক এই অফবিট জায়গাগুলি দিয়ে। ভারতের সঙ্গে সে দেশের যোগাযোগ এতটাই দৃঢ় যে সেখানে গেলে বিদেশ বলে বিশেষ মনে হয় না। সেদেশে বেড়াতে গেলে মনে হয় যেন উত্তরবঙ্গ কিংবা সিকিমে বেড়াতে গেছেন। সংস্কৃতি, খাওয়া দাওয়া, অতিথি আপ্যায়নের দিক দিয়ে ভারতীয়দের সঙ্গে ভুটানবাসীদের বেশ মিল। বরং বলা ভালো যে ভারতীয়দের থেকেও ভুটানবাসীর আপ্যায়ন বেশি আন্তরিক। পূর্বাংশে সাবেকিয়ানা বেশি। তুলনায় পশ্চিমাংশ অনেক বেশি আধুনিক। তা আধুনিক জীবনযাত্রা তো নিজের বাড়িতেই আছে, বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ি সাবেকিয়ানায় কটা দিন কাটালে কেমন হয়?

​পূর্ব ভুটান ভ্রমণ



​পূর্ব ভুটান ভ্রমণ


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​পূর্ব ভুটান ভ্রমণ

পর্যটকদের চোখে ভুটান মানেই পাহাড়, জঙ্গল, আর সবুজ প্রকৃতি। এখানকার খোঁজ পর্যটকরা কম রাখেন বলেই এদিকটায় নিরিবিলি বেশি। তবে এই অংশে এখন ধীরে ধীরে নতুন হোটেল, ট্রেকিং রুট, প্রশিক্ষিত গাইডে দেখা মিলতে শুরু করেছে। বর্তমানে এই স্থান পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি সেজে উঠেছে। পূর্ব ভুটান মূলত গ্রামাঞ্চল। অনেকগুলি ছোটো ছোটো গ্রাম নিয়েই এই পূর্বাংশ গড়ে উঠেছে। এক একটি গ্রামের লোকসংখ্যা হাজারেরও কম। বাড়িগুলি সব সাবেকিভাবে তৈরি। আধুনিক ভুটানের সঙ্গে এখানকার জীবনযাত্রার বিশেষ মিল নেই। দেশের এই অংশের মানুষরাও নিজেদের প্রাচীন সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। বাইরের আধুনিক দুনিয়ার সঙ্গে তাঁরা প্রয়োজনের বেশি যোগাযোগ রাখেন না। তাঁদের সেই সরল জীবনযাত্রাই এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।

পূর্ব ভুটান গ্রীষ্মকালে বেজায় গরম পড়ে। তেমনই ঘামে অস্বস্তি হয়। তাই গরমকালে সেখানে যাওয়া ঠিক নয়। যদিও এই সময় নানা এলাকার জঙ্গল প্রচুর পাখি দেখা যায়। গরম সহ্য করতে পারলে সেই সময় যান। তবে বর্ষাকালে ভুটান যাওয়া একেবারেই অনুচিত। মে থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। রাস্তায় ধস নামা তো প্রায় রোজকার ঘটনা। পূর্ব ভুটান ঘোরার সেরা সময় হল ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত। এই সময় আবহাওয়া যেমন আরামদায়ক থাকে তেমনই এখানে নানা উৎসব পালিত হয়। বসন্তের রঙিন ফুলে চারদিক সেজে ওঠে। অথচ এসব দেখার জন্য পর্যটকের অভাবে চোখে পড়ার মতো থাকে।

পূর্ব ভুটান ঘুরতে গেলে কিন্তু শারীরিকভাবে একদম সুস্থ হতে হবে। সব জায়গায় গাড়ি পৌঁছোয় না। তাই পায়ে হেঁটে অনেক স্থানেই যেতে হবে। আর পাহাড়ে ট্রেক করতে চাইলে তো ফিট থাকতেই হবে। পূর্ব ভুটানে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের স্থাপত্যের প্রচুর নিদর্শন। বৌদ্ধ মঠ আর মন্দিরে পরিপূর্ণ এই এলাকা। এই প্রাচীন স্থাপত্যগুলি দেখলে মন ভরে যাবে।

​দ্রামেতসে গোয়েম্বা



​দ্রামেতসে গোয়েম্বা


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​দ্রামেতসে গোয়েম্বা

পূর্ব ভুটানের সবচেয়ে উল্লখযোগ্য বৌদ্ধ মঠ হল দ্রামেতসে গোয়েম্বা। এই মঠটি স্থাপিত হয়েছিল ১৫১১ সালে। এটি প্রতিষ্ঠা করেন পেমা লিংপার নাতনি অ্যানি চোতেন জাংমো। দ্রামেতসে শব্দের অর্থ যে শৃঙ্গের কোনও শত্রু হয় না। এই মঠে প্রায় একশো বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বাস করেন। এখানকার ‘না চাম’ বাজনা বাজিয়ে নাচের খ্যাতি জগৎজোড়া। এই নাচ UNESCO-এর সেরা সাংস্কৃতিক বিভাগে স্থান পেয়েছে। থুঙ্গারি থেকে দ্রামেতসে গোয়েম্বার দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। পৌঁছোতে এক ঘণ্টা সময়ও লাগে না। তারপর মেঝে থেকে প্রায় ১৩৫০ মিিটার পথ পায়ে হেঁটে উপরে উঠতে হবে। বৃষ্টির সময় উপরে ওঠা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

​গোম্ফু কোরা



​গোম্ফু কোরা


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​গোম্ফু কোরা

পূর্ব ভুটানের অপূর্ব সুন্দর এক অভয়ারণ্য হল গোম্ফু কোরা। চাজাম থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার। এটি এক সময় ছিল বৌদ্ধ গুরু রিনপোচের ধ্যানের স্থান। নিজের পার্থীব দেহ গুহার উপর রেখে দিয়ে সূক্ষ্ম দেহে ধ্যান করতেন তিনি। সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ এই এলাকায় রয়েছে একটি কালো রঙের বিশালাকার পাথর। কথিত আছে, এখানকার এই পাথরেরই কাছে অবস্থিত একটি ছোটো গুহায় গুরু রুনপোচে ধ্যান করতেন। একবার এক দৈত্য কেউটে সাপের রূপ ধরে তাঁর উপর হামলা চালায়। বুঝতে পেরে সন্ন্যাসীর তাড়াতাড়ি ধ্যান ভেঙে যায়। নিজের পার্থীব দেহ ছেড়েই তিনি উঠে পড়েন। সেই গুরু রিনপোচেই গরুড় রূপ ধারণ করেন। এবং সেখান থেকে উড়ে চলে যান। ভক্তদের বিশ্বাস স্বর্পরূপী দৈত্যের সঙ্গে গুরু রিনপোচের চুক্তি হয়েছিল যে যতদিন না তাঁর ধ্যান ভাঙবে ততদিন ওঁর উপর কেউ আক্রমণ করবে না। ধ্যান শেষ হতেই সাপের আক্রমণে প্রতিরোধ করে তিনি স্বর্গে ফিরে যান। দৈত্য এবং সন্ন্যাসীর সেই চুক্তি সেই পাথরের উপর আজও খোদিত আছে।

​চোরতেন কোরা



​চোরতেন কোরা


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​চোরতেন কোরা

নেপালের বোধনাথ স্তূপের আদলে তৈরি হয়েছে চোরতেন কোরা। ১৭৪০ এটি তৈরি করেন লামা নাওয়াং লোদে। লোকের বিশ্বাস, নেপালে গিয়ে বোধনাথ স্তূপের ছবি নিজের হাতে একটি মূলোর মধ্যে এঁকে নিয়ে এসেছিলেন লামা নাওয়াং লোদে। নেপালে গিয়ে সবাই বোধনাথ স্তূপ দেখতে পারেন না তাই সেই সব পূর্ণ্যার্থীদের কথা ভেবেই এই চোরতেন কোরা তৈরি করেছিলেন তিনি। চান্দ্র পঞ্জিকার প্রথম মাসে মাসে ফেব্রুয়ারি বা মার্চে স্থানীয়দের কাছে খুব পবিত্র। মাসের ১৫ এবং ৩০তম দিনে অনুষ্ঠান হয়।

​ত্রাশিগাং জং



​ত্রাশিগাং জং


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​ত্রাশিগাং জং

দ্রাংমা চু এবং গরমি চু নদীর সঙ্গম স্থলে অবস্থিত ত্রাশিগাং জং বৌদ্ধ মঠটি বেশ জমকালো। ত্রাশিগাং জং-এর অর্থ পবিত্র পাহাড়ের দুর্গ। এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৬৬৭ সালে। এই মঠের একই আঙিনায় প্রশাসনিক এবং আধ্যাত্মিক কাজ হয়ে থাকে। মঠের ভিতরে রয়েছে অপূর্ব সুন্দর প্রাচীন মুরাল আর্ট এবং পেইন্টিং। সেগুলি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

​মংগার জং



​মংগার জং


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​মংগার জং

আগে এখানে ছিল শোঙ্গার জং। ১৯৩০ সালে তার বদলে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয় মংগার জং। এই মঠে এখনও পর্যন্ত আসল উতসে বা কেন্দ্রীয় মিনার ব্যবহার করা হয়। একটি উতসে রয়েছে চারটি করে লাহখাং। এই মঠের দুটি প্রবেশ পথ। মঠের কারুকার্য অপূর্ব সুন্দর। তার চেয়েও সুন্দর মঠের বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ।

​খোমা গ্রাম



​খোমা গ্রাম


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​খোমা গ্রাম

খোমা পূর্ব ভুটানের চোট্টো এবং ছবির মতো সাজানো একটি গ্রাম। তবে দুঃখের বিষয় এই অপূর্ব সুন্দর গ্রামে গাড়ি করে প্রবেশ করা যায় না। ঘণ্টা দুয়েক পায়ে হেঁটে তবে এই গ্রামে পৌঁছোনো যায়। তবে হ্যাঁ, এই গ্রামে না গেলে পূর্ব ভুটান ঘোরা বৃথা হয়ে যাবে। এখানে পাবেন সাবেকি ভুটানের প্রাচীন সংস্কৃতির দেখা। পাবেন সাবেকি পোশাক। এখানে খুব ভালো সিল্কের কাপড় পাবেন। তাতে সুতোর কাজ করা থাকে। এই গ্রামটি হল ভুটানের তাঁতি গ্রাম। গ্রামের প্রায় বেশিরভাগ মানুষই কাপড় বানিয়ে দিন গুজরান করেন।

​পেটপুজো ও হোটেল



​পেটপুজো ও হোটেল


© এই সময় এর দ্বারা সরবরাহকৃত
​পেটপুজো ও হোটেল

ঘোরাঘুরি তো অনেক হল এবার পেটপুজোর পালা। পূর্ব ভুটানে খাবারের হোটেল কিন্তু হাতে গোনা। যদি হোমস্টে করলে সেখান থেকেই খাবার সরবরাহ করা হয়। এবং সেই খাবারের স্বাদের কোনও তুলনা হয় না। সাবেকি ভুটানী খাবার একবার খেলে ভুলতে পারবেন না।

ভুটানে গেলে অবশ্যই একবার ‘নাকে’ খেয়ে দেখবেন। না না। নাকে মানে নাক দিয়ে খাবার নয়। এটি একধরনের পানীয়। খেলে নেশা হয়। অনেকটা চোলাই মদের সঙ্গে লঙ্কা মিশিয়ে এটি তৈরি হয়। ভুটানিদের খুব প্রিয় এই নাকে। থাকার জায়গারও এখানে বেশ অভাব রয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি হোটেল আছে অবশ্য। আরও তৈরি হচ্ছে। তবে হোমস্টের ব্যবস্থা বেশ ভালো।

বার্তা সূত্র