কন্ডোম না জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট! কোনটার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা

কন্ডোম না জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট! কোনটার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা

পল্লবী ঘোষ: সমীক্ষা বলছে, লকডাউনের পর যৌনসঙ্গমের হার নাকি বাড়ছে! বিভিন্ন ওষুধের দোকানে খোঁজ নিলেও দেখা যাচ্ছে, কন্ডোম এবং গর্ভনিরোধক বড়িও বিক্রি হচ্ছে মুড়িমুড়কির মতো। জন্মনিয়ন্ত্রক ট্যাবলেট সুবিধাজনক হলেও, সেটা কোন সময় খাওয়া উচিত এবং কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, সেসব নিয়ে এখনও সচেতন নন কেউ। এ প্রসঙ্গে, ডাক্তার অরুনাভ ঘোষ, aajkaal.in কে জানালেন, ‘শারীরিক সম্পর্ক বা সেক্স ভীষণ জরুরি। এটা আমরা প্রায়শই বলি। মানসিক চাপ কমাতে তো বটেই, শারীরিক নানা সমস্যা দূর হয় এর কারণে। লকডাউনে, বাড়িতে থাকলেও কাজের চাপ কিন্তু কমেনি। বরং বেড়েছে। কিন্তু সেভাবে ক্লান্ত হন না বলেই, পুরুষ, মহিলা উভয়েরই যৌন সঙ্গমের প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে এই সময়। কন্ডোম ব্যবহার করতে চান না অনেকেই। সেক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি মেয়েদের খেতেই হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, কখন কোন সময় এই ট্যাবলেট খাওয়া উচিত সেসব নিয়ে মেয়েদের সঠিক ধারণা নেই। যথাযথ নিয়ম না মেনে, যখন তখন বড়ি খেয়ে নিজেরা অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছেন।’ 

 

অনেকেই ভয় পান, হয়তো এইধরনের ট্যাবলেট খেলেই স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। এই নিয়ে নানা মত লোকমুখে ঘোরাফেরাও করে। এ প্রসঙ্গে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ রিতা সিনহা জানাচ্ছেন, 

 

‘১. গর্ভ নিরোধক ট্যাবলেট খেয়ে স্তন ক্যানসার হয় কি না এই নিয়ে নানা গবেষণা চলছে। এখনও পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি কেউ। 

 

2. হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় ঠিকই। কিন্তু সঠিক পদ্ধতিতে, পরামর্শ অনুযায়ী খেলে ক্ষতির সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। 

 

৩. ইস্ট্রোজেন ক্ষরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি আছে বলে ধরে নেওয়া হলেও, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও গবেষণা চলছে। 

 

৪. বড়ি খেলেও, ঋতুস্রাবের দিন মেনে তবেই খাওয়া উচিত। তাছাড়া যিনি খাচ্ছেন, তাঁর হরমোনাল ডিসর্ডার আছে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পিরিয়ড হয় কি না, এগুলোর উপর নির্ভর করেই পিল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

 

৫. তবে, কন্ডোম ব্যবহারে এই ধরনের সমস্যা পোহাতে হয় না কাউকেই।’ 

 

 

পিলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া- 

 

১. পিরিয়ড নির্দিষ্ট তারিখে শুরু না হওয়া। 

২. ওজন কখনও বাড়তে পারে, আবার হঠাৎ কমেও যেতে পারে। 

৩. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। 

৪. মানসিক চাপ অনুভব করা। 

৫. সাময়িকভাবে পেটের যন্ত্রণা। 

 

 

অরক্ষিত সহবাসের পর কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন – 

 

১. অনিয়মিত পিরিয়ড। 

২. শ্বাসকষ্টের সমস্যা। 

৩. বমি বমি ভাব। 

৪. ক্ষণে ক্ষণে স্তনে যন্ত্রণা অনুভব করা। 

৫. চোখে ঝাপসা দেখা। 

 

 

প্রতিকার – 

 

এ প্রসঙ্গে গাইনোকোলজিস্ট কন্যা কুমারী কুন্ডু জানাচ্ছেন, ‘জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি খাওয়ার জন্যই ক্যানসার হয় কি না, সেটা নির্দিষ্ট করে বলার সময় এখনও আসেনি। গোটা বিশ্বে কয়েকজনের ধরা পড়লেও, এর জন্য পিল দায়ী কিনা সেটা লিখিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটা ঠিক, এইধরনের ট্যাবলেট কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই অনেকে খান। ক্যানসার না হলেও, অন্যান্য অসুখে অচিরেই ভুগতে পারেন তাঁরা। পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেয়। তার থেকে আরও নানা শারীরিক অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় তাঁদের। তাছাড়া আরও একটা বিষয়, পিল খাওয়ার পরে টেনশনে ভোগেন মেয়েরা। ঘনঘন প্রেগনেন্সি টেস্ট করতেও হয়। তাই এইধরনের ঝক্কি থেকে রেহাই পাওয়ার সহজ সমাধান হল, কন্ডোম ব্যবহার করা। যদি কন্ডোম ছিঁড়ে যায়, সেক্ষেত্রে পিল খেতেই হবে। এমন ঘটনার সম্মুখীন হলে, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’ 

বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email