Skip to content

কক্সবাজারের উখিয়ায় দৃশ্যমান হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধমূর্তি  

কক্সবাজারের উখিয়ায় দৃশ্যমান হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধমূর্তি  

কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া কেন্দ্রীয় আনন্দ ভবন বৌদ্ধবিহারের মাঠে নির্মাণ করা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ বৌদ্ধমূর্তি। যার দৈর্ঘ্য ১৩০ ফুট। আর এই স্থাপনা নতুন এক পর্যটন সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের। বৌদ্ধ মুর্তির কাজ অনেকটা সম্পন্ন হলেও অবকাঠামোগত অনেক কাজ নির্মানাধিন রয়েছে। যা ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঐতিহাসিক উখিয়া কেন্দ্রীয় আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারে ১৩০ ফুট বৌদ্ধমূর্তির সামনে প্রায় ৬৫০০ স্কোয়ার ফুটের জায়গা জুড়ে নির্মিত হচ্ছে মহাপুরুষদের নামে সেমিনার হল, ধর্ম সভামঞ্চ, লাইব্রেরি, ভিক্ষু সংঘের আসন, বৌদ্ধ জাদী, জাদু ঘর ও মহা কর্মযজ্ঞ। 

উখিয়া উপজেলার রাজপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ী এলাকায় আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারটি ১৭৮৩ সালে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়।  বর্তমান আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারে অর্ধ  শতাধিক ভিক্ষু ও সেবক রয়েছে। 

জানা যায়, ২০১৭ সালে বুদ্ধমূর্তিটির কাজ শুরু হয় এবং উপাদান হিসেবে ইট, কংক্রিট, বালি, লোহা ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোট ৮০ লক্ষ টাকা।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, মহামতি গৌতম বুদ্ধ ২ হাজার ৫০০ বছরেরও বেশি সময় আগে ভারতের কুশী নগরে দেহত্যাগ করেছিলেন যে শয্যায়, সেই নকশাতেই নির্মাণ করা হচ্ছে বৌদ্ধ মূর্তিটি। ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার মহাপরিনির্বাণ মূর্তিটি এশিয়াতেও হবে অন্যতম বৃহত্তম বৌদ্ধমূর্তি। ২০১৭ সালে শুরু হয় এর নির্মাণকাজ, রংসহ বাকি কাজ শেষে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে উদ্বোধন করা হতে পারে।

স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা রোপন বড়ুয়া বলেন,  দেশে-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পূজারী, পুণ্যার্থী, পর্যটক ও দর্শনার্থীর জন্য এটি অনেক বড় পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে। আমরা যদি ভালোভাবে প্রচার করতে পারি তাহলে পযর্যটন খাতে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে কক্সবাজার।

বৌদ্ধ মূর্তিটির প্রতিষ্ঠাতা ও উখিয়ার আনন্দ ভবন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবোধি মহাথেরো  বলেন, সকলের সহগোগিতায় ২০১৭ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ। বৌদ্ধ মূর্তির কাজ অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে অন্যান্ন অবকাঠামোর কাজ শেষ করতে আরও টাকার প্রয়োজন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে উদ্বোধনে একটি উৎসর্গ অনুষ্ঠান করা হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুখরিত করবে নিঃসন্দেহে। কক্সবাজার জেলার বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো একদিকে যেমন ধর্মীয় পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি করছে অন্যদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে সমৃদ্ধ করছে কক্সবাজারকে।

নির্মাণাধীন এ বৌদ্ধ মূর্তিটি ছাড়াও কক্সবাজারের রামুর উত্তর মিঠাছড়ি বৌদ্ধ বিহারে রয়েছে গৌতমবুদ্ধের ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা বৌদ্ধ মূর্তি। ইতোমধ্যে এ বৌদ্ধ মূর্তিটিও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।

এমএস



বার্তা সূত্র