Skip to content

এখনও দাখিল হয়নি তিন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

এখনও দাখিল হয়নি তিন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

কুমিল্লা নগরীতে সাম্প্রদায়িক হামলা-সহিংসতার এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর এ ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। সদর দপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটিকে দেওয়া সময় সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি। দুটি তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তাদের আরও সময় প্রয়োজন। গতকাল শনিবার বিকেলে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমিটিগুলো তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। হত্যা, কোরআন অবমাননা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি মডেল থানায় ১২টি মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার হয় প্রায় ১০০ জন। এসব মামলার মধ্যে পাঁচটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি ও চারটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং তিনটি থানা পুলিশ তদন্ত করছে বলে জেলা পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীর একটি মণ্ডপে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগের পর সহিংসতার ঘটনায় পর পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ওয়াই এম বেলালুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ২১ অক্টোবর সকালে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে কল এবং এসএমএস দিলেও সাড়া মেলেনি। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

একই ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটিও গত এক মাসে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ বিষয়ে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদুল আরেফিন গতকাল সমকালকে বলেন, বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর। আরও কিছু সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া বাকি আছে। আমরা আবারও কিছুদিনের সময় চাইব। সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ গঠন করেন তিন সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি। এ কমিটিও এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ করতে পারেনি। এ বিষয়ে কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আফজাল হোসেন সমকালকে বলেন, তদন্তে বেশ কিছু অগ্রগতি আছে। তবে যেহেতু এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের আরও দুটি তদন্ত কমিটি আছে, তাই আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ ও ইউপি নির্বাচনের কারণে আমাদের সময় দিতে হয়েছে। তাই তদন্তের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে আরও কিছু সময় লাগবে। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। মণ্ডপে ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিউদ্দিন আহমেদ বাবুসহ ১৩ জন গতকাল থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কান্তি নাথের আদালতে আসামিদের হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। ৬ নভেম্বর সাজেক থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির একটি সূত্র জানায়, মণ্ডপে ধর্ম অবমাননার মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেন, ৯৯৯-এ পুলিশকে কল করা ইকরাম এবং ফেসবুকে প্রথম লাইভ করা ফয়েজকে রিমান্ডে এনে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন শিমুল ও তার ভাই ফয়সাল মবিন পলাশকে সিআইডি গ্রেপ্তারের পর তারা অনলাইনে লাইভ করার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, ঘটনার শুরু মণ্ডপে কোরআন রাখা নিয়ে। সেই ঘটনায় সরাসরি জড়িত ইকবাল হোসেন তা স্বীকারও করেছে। পাঁচটি মামলা আমরা (সিআইডি) তদন্ত করছি। স্থানীয়ভাবে তদন্ত, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করার পর তাদের আটক করা হবে।

সহিংসতার সময় নগরীর একটি মণ্ডপে দিলীপ কুমার দাস নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলাসহ দুটি মামলা এবং দাউদকান্দি ও দেবিদ্বারে মণ্ডপে হামলার ঘটনায় করা দুটিসহ চারটি মামলা তদন্ত করছে পিবিআই। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ৯ নভেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ও বোরহান উদ্দিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, চারটি মামলাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের তদন্ত শুরু হয়েছে। দিলীপ কুমারের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় রিমান্ডপ্রাপ্তদের দু-এক দিনের মধ্যে পিবিআই কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। খুব দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় আটটি, সদর দক্ষিণ থানায় দুটি, দাউদকান্দি ও দেবিদ্বার থানায় একটি করে মামলাসহ ১২টি মামলা হয়েছে।



বার্তা সূত্র