Skip to content

একাধিক মামলার আসামি হলেন মেম্বার প্রার্থী

একাধিক মামলার আসামি হলেন মেম্বার প্রার্থী

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের ইউনিয়নে একাধিক মামলার আসামি মেম্বার প্রার্থী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘুর জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে

জানা গেছে, তিনি নলতা গ্রামের এক নারীকে (৫৩) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে ওই নারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বিয়ের প্রস্তাব দিলে অভিযুক্ত রাজ্জাক পেদা তা ফিরিয়ে দেন। পরে ওই নারী রাজ্জাকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন। এই মামলায় বর্তমান রাজ্জাক জামিনে আছেন।

এ ব্যাপারে ওই নারী বলেন, আ. রাজ্জাক পেদা আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ভরণপোষণ, পোষক দেয় না। আমার অনেক টাকা, স্বর্ণ গয়না মেরে খেয়েছে রাজ্জাক। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। তাই আমি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। আমি গরিব বলে কোনো বিচার পাচ্ছি না।

তিনি আরো বলেন, রাজ্জাক নিজের স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ, পোষক দিতে পারে না। তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান সে মেম্বার পদে নির্বাচন করবে কি করে? নির্বাচন অফিস কি তার কাগজ যাচাই-বাছাই করে নাই।

অন্যদিকে, নড়িয়া নিতিরা গ্রামের সংখ্যালঘু নিত্যাআনন্দ মণ্ডলের জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর তোলার অভিযোগও আছে আ. রাজ্জাক পেদার বিরুদ্ধে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল নিত্যাআনন্দ মণ্ডলের ছেলে হৃদয় মণ্ডল ও অলক মণ্ডল বাধা দিলে তাদের মারধর করে আহত করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় পরদিন ২৫ এপ্রিল হৃদয় বাদী হয়ে রাজ্জাক পেদাসহ পাঁচজনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি রাজ্জাক পেদা। এই মামলায়ও রাজ্জাক জামিনে আছেন।

নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আসামি আ. রাজ্জাক পেদা জামিনে এসে   নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ১ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আ. রাজ্জাক পেদা বলেন, সংখ্যালঘু হৃদয় মণ্ডল যে মামলা করেছে, ওই ঘটনার সময় আমি বাড়িতেই ছিলাম না। তবুও আমাকে মামলায় আসামি করেছে। আর ওই নারী আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলা করেছে। প্রতিটি মামলায় পরাজিত হয়েছে। আমি মামলা থেকে জামিনে আছি।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আগামী ৫ জানুয়ারি ভূমখাড়া ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ করার কথা রয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে আ. রাজ্জাক পেদা মেম্বার প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজিমুদ্দি ফকির বলেন, হৃদয় মণ্ডল বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করি। অন্যরা জামিনে আছেন। এ মামলার চার্জশিট জমা দিয়েছি।



বার্তা সূত্র