একদিন বাদেই শোকের মাস আগস্ট শুরু।। জাতীয় শোক দিবস পালনে স্বাস্থ্যবিধির গাইডলাইন

* সাইমুম হক * আর মাত্র একদিন বাদেই শুরু হচ্ছে বাঙালি জাতির জীবনের সবচাইতে কলঙ্ক, বেদনা ও লজ্জার শোকাবহ মাস আগস্ট। এমাসের ১৫ আগস্ট একদল উচ্চাভিলাষী, ক্ষমতালিপ্সু, বর্বর মানুষরূপী পশু তার জাতির পিতাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মান ভূলন্ঠিত করে। স্তম্ভিত, শোকার্ত হয় গোটা পৃথিবী।  দেশের স্হপতি জাতির জনককে এভাবে খুন করার লজ্জাভাগ চেপে বসে পিতাকে হারানো এতিম বাঙালি জাতির ঘাড়ে। গোটা বিশ্বে এদেশের মানুষ হেয় ও নিন্দিত হয়।

এই আগস্টে শুধু জাতির পিতাই স্ব-পরিবারে খুন হননি। দেশের ইতিহাসে আরো অনেক কালিমালিপ্ত দিনের সাক্ষী এই আগস্ট। সেই নরাধমরা এই আগস্টেই আরো অনেক অপকর্মের নিকৃষ্ট ঘটনা ঘটিয়ে দেশের জনমানসে ঘৃণা কুড়িয়েছে ।

৭৫-এর আগস্টেই যে ওদের সব ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে গিয়েছিল তা নয়। জামাত-বিএনপি শাসনামলে ২০০৪ সালে এই আগস্ট মাসেই জাতির পিতার সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া (বিদেশে থাকায়) দুই কন্যার জেষ্ঠ্য জাতীয় সংসদের তদানীন্তন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঘন্য এক নীলনকশার মাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালায়। ২০০৪-এর ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে আয়োজিত এক সন্ত্রাস বিরোধী সমবেশে প্রকাশ্য দিবালোকে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গ্রেনেড হামলা চালায় ও-ই একই চক্র। তখনো অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু বিভীষিকাময় সেই ঘটনায় আওয়ামী লীগের শীর্ষস্হানীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী কাতরাতে কাতরাতে প্রাণ হারান। আহত হন কয়েক শত। তদানীন্তন মেয়র মোঃ হানিফসহ কয়েকজন পরবর্তীতে মারা গেলেও এখনো    শরীরে বিদ্ধ অসংখ্য  স্পীলন্টারের যন্ত্রণা সহ্য করে অনেকে বেঁচে রয়েছেন।

আবার বছর না ঘুরতেই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বিএনপি-জামাতের মদদপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবির উদ্যোগে সারা দেশের ৬৩ জেলার ৫’শ স্হানে পরিকল্পিতভাবে একই সময়ে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেশে জঙ্গিবাদের উপস্থিতির জানান দেয়।

এ কারণেই আওয়ামী লীগসহ উদারপন্হী প্রগতিশীল দলগুলো আগস্টকে শোকের মাস বলেই বিবেচনা এবং নানা কর্মসূচি পালন করে। অতিমারি করোনার কারণে গত বছর থেকে আগস্টের কর্মসূচি খুব সীমিত আকারে পালন করা হচ্ছে।

তথ্য বিবরণীর খবরে জানা গেছে এবছরও করোনার ভয়াল অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ১৫ আগস্ট “জাতীয় শোক দিবস” পালনের সময় সকলকে নিরাপদ রাখতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি গাইড লাইন দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ গতকাল এক পত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারী করে। নির্দেশনাসমূহ হলো :
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান :
*    অনুষ্ঠান স্থলের প্রবেশ ও বাহির পথ পৃথক ও নির্দিষ্ট করতে হবে;
*    শ্রদ্ধাজ্ঞাপন স্থানে একসাথে ১৫-২০ জনের বেশি মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন না। আগত ব্যক্তিবর্গ নির্দিষ্ট দূরত্ব (৩ ফুট বা কমপক্ষে ২ হাত) বজায় রেখে লাইন করে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করবেন এবং শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে বের হয়ে যাবেন। সম্ভব হলে পুরো পথ পরিক্রমাটি গোল চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট করা যেতে পারে;
*    সমাবেশে আগত সকলের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। প্রবেশ পথে হ্যান্ডস্যানিটাইজার সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে;
*    সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করবেন না;
*    হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু, রুমাল বা কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যু ও বর্জ্য ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ঢাকনাযুক্ত বিনের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং জরুরীভাবে তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে;
*    স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

আলোচনা সভা / মিলাদ মাহফিল :
*    জনসমাগম যথাসম্ভব কম রাখতে হবে। অনুষ্ঠানস্থল বা কক্ষের আয়তনের ওপর লোকসংখ্যার  উপস্থিতি নির্ধারণ করতে হবে;
*    অনুষ্ঠানে আগত সকলের মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক, মাস্ক ব্যতীত কাউকে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।
*    প্রবেশ পথে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সম্ভব হলে হ্যান্ডস্যানিটাইজারের সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে;
*    অনুষ্ঠানস্থলে একজন থেকে আরেকজন নির্দিষ্ট দূরত্ব (৩ ফুট বা কমপক্ষে ২ হাত) বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে বসার স্থানটি নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।
*    হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু অথবা কনুই দিয়ে মুখ এবং নাক ঢাকতে হবে এবং ব্যবহৃত টিস্যু ও বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। জরুরি বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
*     স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ