Skip to content

এই পুরস্কার আমার জন্য অনেক আনন্দের ও গর্বের

এই পুরস্কার আমার জন্য অনেক আনন্দের ও গর্বের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক, নাট্য নির্দেশক, গবেষক ও কথাসুন্দর নাট্যদলের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর ড. কুন্তল বড়ুয়া। সম্প্রতি ভারতের আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন রিসার্চ সোসাইটির পক্ষ থেকে লাভ করেন ‘হীরালাল সেন স্বর্ণ পদক-২০২২’। পুরস্কার প্রাপ্তি, বিভাগীয় কার্যক্রম, দলীয় প্রযোজনা, নাট্য গবেষণা এবং আগামীর কার্যক্রম নিয়ে দৈনিক আমাদের সময়ের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন- অপূর্ব কুমার কুন্ডু

বিশ্বের অনেক দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আপনাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হলো। এই প্রাপ্তিতে আপনার অনুভূতি কী?

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সন্দীপ রায় এবং আমাকে হীরালাল সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক ২০২২-এ ভূষিত করা হয়েছে। স্বীকৃতি পেতে সবার ভালো লাগে। এতো দীর্ঘসময় শুধু নাট্যমঞ্চ ঘিরে আমার জীবনের অর্ধশত বৎসর কাটিয়ে দিয়েছি। আমার এ পুরস্কার বাংলাদেশে যারা গ্রুপ থিয়েটারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, করে চলেছেন; বিশেষ করে যারা মফস্বলে কাজ করেন, তাদের উৎসর্গ করছি। আমি বাংলাদেশের শেষ প্রান্তের দক্ষিণ অঞ্চলের (চট্টগ্রাম) নাট্যকর্মী। আমি এর আগেও ভারতে পুরস্কার পেয়েছি। এই পুরস্কার আমার জন্য অনেক আনন্দের ও গর্বের। সন্দীপ রায়ের মতো বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে একই মঞ্চে পুরস্কার পাওয়া- এটি সত্যিই স্বপ্নের মতো।

আপনার গবেষণাকে তারা যেভাবে মূল্যায়িত করল, বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

প্রায় চারযুগ ধরে আমি নাট্যচর্চার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। শুধু নাট্য নির্দেশনা নয়, নাটকের ওপর আমার যে গবেষণাধর্মী কাজ, বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সমাজের নাট্যচর্চার ওপর আমার যে পিএইচডি রয়েছে সেটিও তারা বিবেচনা করেছেন। পাশাপাশি যারা আমার নাটক দেখেছেন (ভারত ও বাংলাদেশে) তারা নিশ্চয় উপলব্ধি করেছেন, আমি বাস্তববাদী নাট্যকর্মী। বিদেশি নাটক, মৌলিক নাটক বা রূপান্তর নাটকই হোক না কেন আমি আমার সব প্রযোজনায় সমকালকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এটাও হয়তো কর্তৃপক্ষের পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

আপনার নির্দেশিত সাম্প্রতিক নাটকের বিষয়ে বলুন-

ইতোমধ্যে আমি ‘কথাসুন্দর’ নামে একটি নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেছি। মূলত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যারা নাট্যকলার শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে গ্রুপ থিয়েটারে দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞ নাট্যকর্মী বা যারা নাট্যচর্চা করছেন তাদের সঙ্গে একটা মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা। চলতি বছর জুনে আমরা হেনরিক ইবসেনের কালজয়ী নাটক ‘এ ডলস্ হাউস’-এর ৩টি প্রদর্শনী কলকাতায় সম্পন্ন করে এসেছি। এই নাটকের সব কলাকুশলী নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ‘কথাসুন্দর’ নাট্যদল প্রযোজিত ‘বৃত্তের বাইরে’ নাটকের দুটি প্রদর্শনী হয়েছে। অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে এই নাটকটি দর্শকদের মাঝে।

‘কথাসুন্দর’ কীভাবে এবং কতটা বেগবান?

২০১৮ সালে ‘কথাসুন্দর’-এর জন্ম। এই দল প্রযোজিত দুটি নাটক হেনরিক ইবসেনের ‘এ ডলস্ হাউস’ (২০২০) এবং ‘বৃত্তের বাইরে’ নাটক (২০২২) এখনো প্রদর্শন করা হচ্ছে। বর্তমানে পেশাদারী রঙ্গমঞ্চের ১৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ‘নটীর কথা’ নামে একটি নাটকের কাজ চলমান। আজ থেকে ১০০ বছর আগে যে নটী বাংলার পেশাদারী রঙ্গমঞ্চকে আলোড়িত করেছিলেন এমনই এক বিখ্যাত অভিনেত্রীর জীবনের কথাই এই নাটকের কাহিনি। আগামী মার্চ মাসে এই তিনটি নাটক নিয়ে ঢাকা ও সারা বাংলাদেশে উৎসব করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ‘কথাসুন্দর’।

আগামীর কর্ম পরিকল্পনা কী?

আগামী বইমেলায় আমার পাঁচটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ হতে যাচ্ছে। ‘প্রসঙ্গ সমকালীন চাকমা নাটক’, ‘ইবসেনের নাটক ও অন্যান্য’ এবং ‘বাংলাদেশের মঞ্চে রবীন্দ্রনাটক : সমীক্ষা’, ‘নাটকের নানা রঙের নানা প্রবন্ধ’ ও ‘চট্টগ্রাম কলেজে নাট্যচর্চা : ১৯৩৩ থেকে সমকাল’।



বার্তা সূত্র