Skip to content

উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন: বিশেষজ্ঞদের অভিমত

উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন: বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ তাঁদের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার চেয়ে কম কাজ করতে পারছেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা, ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনা এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন যার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্সেস এ প্রকাশিত হয়েছে। দ্রুত উষ্ণতা বেড়েছে বিশ্বের এমন ২৫টি দেশের কত মানুষ উষ্ণায়নের কারণে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন তার একটি চিত্র গবেষণায় তুলে ধরে বলা হয়েছে এ সকল দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার সাময়িকীটিতে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলের উদ্ধৃতি দিয়ে বুধবার ঢাকায় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে শীর্ষে থাকা ভারতে উষ্ণায়নের কারণে ১১০ কোটি ৪০ লাখ মানুষ কর্মক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে ১৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। ১৪ কোটি ৩১ লাখ মানুষ কর্মক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে থাকায় তালিকায় পাকিস্তান তৃতীয়, ১১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষের ঝুঁকির কারণে চীন চতুর্থ এবং ৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে থাকায় নাইজেরিয়া পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ৩৭ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে এবং বাকি ৬৩ শতাংশ তাপমাত্রা বৃদ্ধি স্থানীয় ভাবেই হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের ৫০টি শহরের বসবাসকারিদের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে বলা হয়েছে এ সকল শহরগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারিদের কর্মক্ষমতা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে। ঢাকার পরই রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি।

গবেষণায় যে ৫০ টি শহরের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের আরও ৩ টি শহর রয়েছে এবং ভারতের একারই রয়েছে ১৭ টি শহর। এ ছাড়া এ সকল শহরের তালিকায় রয়েছে চীনের সাংহাই ও গুয়াংঝৌ, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।

গবেষণায় ১৯৮৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৩ হাজারের বেশি শহরের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে একই সময়ে শহরগুলোর মোট জনসংখ্যার তথ্য। এতে বলা হয়েছে শহরের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সেটিকে ‘চরম উষ্ণ’ বলা যায়।

গবেষণায় ঢাকাবাসীর কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণও উঠে এসেছে। বলা হয়েছে ঢাকা শহরে জনসংখ্যা বিশ্বের মধ্য সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে। ১৯৮৩ সালে যেখানে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৪০ লাখ সেখানে ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি। এ ছাড়া শহরটিতে সারা বছরই দেশের অন্যান্য জেলা গুলো থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসা-যাওয়া করে থাকেন।

গবেষণায় বলা হয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ঢাকায় একদিকে গাছপালা কমেছে এবং অন্যদিকে বেড়েছে কংক্রিটের ইমারত। এই ৩২ বছরে ঢাকার মোট তাপমাত্রা যে পরিমাণে বেড়েছে তাতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ভূমিকা ২০ শতাংশ এবং বাকি ৮০ শতাংশ মূলত দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঘটেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষক দলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্থ ইনস্টিটিউটের গবেষক ক্যাসকেড টুহলস্কি বলেছেন চরম উষ্ণতার ফলে অসুস্থতা ও মৃত্যু দুটোই বাড়ছে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মানুষের কর্মক্ষমতার ওপর।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা