উপজাতি বনধের মাঝে গুলিতে মৃত্যু হৃদয় বিদারক ঘটনা, বিজেপি দায়ী: মানিক সরকার

উপজাতি বনধের মাঝে গুলিতে মৃত্যু হৃদয় বিদারক ঘটনা, বিজেপি দায়ী: মানিক সরকার - Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper

আগরতলা: মিজোরাম থেকে আসা ব্রু (রিয়াং) উপজাতিদের স্থায়ী বাসস্থান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পালন করেনি বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার। মিজোরাম সীমান্তে গুলি চালনায় মৃত্যুর ঘটনা হৃদয় বিদারক। এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারই দায়ি। এমনই বিবৃতি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। বর্ষীয়ান শীর্ষ সিপিআইএম নেতার বিবৃতি সেশ্যাল সাইটে ভাইরাল হয়েছে। এর জেরে আলোড়ন রাজনৈতিক মহলে।

এদিকে গুলি চালনা ও মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে এমনই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পুনর্বাসন ও স্থায়ীকরণ ইস্যুতে মিজোরামের সীমান্ত বরাবর উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর, পানিসাগর এলাকা উত্তপ্ত। ব্রু উপজাতিদের ডাকা বনধ ঘিরে গত ৫দিন ধরে পুরো অঞ্চল বিচ্ছিন্ন।

শনিবার এই বনধ চলাকালীন বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। পুলিশ গুলি চালায়। এক ব্যক্তির মৃত্যু ও আরও ৫ জন জখম হন। আক্রান্ত হয় পুলিশ। এই ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সম্প্রতি বিরোধী দল সিপিআইএম বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল মিজোরাম এ ত্রিপুরা আন্তঃরাজ্য সীমানার পরিস্থিতি যে কোনও সময় ঘোরালো হবে। শনিবারের রক্তাক্ত পরিস্থিতি তেমনই।

বিবৃতিতে বিরোধী নেতা মানিক সরকার জানিয়েছেন, ” আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে একটি বাস্তব সম্মত সুরাহার ব্যবস্থা করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব ছিল না। কিন্তু সরকার গ্রহণ করল একগুঁয়ে স্বৈরাচারী পদ্ধতি। যার প্রতিফলন ঘটেছে আজকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অগণতান্ত্রিক, অমানবিক পুলিশী শক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে।”

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করুক সরকার। পাশাপাশি আক্রান্ত পুলিশ ও টিএসআর নিরাপত্তা কর্মীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন মানিক সরকার।

ব্রু উপজাতিদের অসন্তোষ ও বনধ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা উত্তর ত্রিপুরা জেলায়। যাবতীয় বিতর্কের মূলে ২৩ বছর আগে পড়শি রাজ্য মিজোরাম থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা শয়ে শয়ে ব্রু উপজাতি শরণার্থীদের পুনর্বাসন ইস্যু। এই ইস্যুতে গত ৫দিন ধরে বনধ চলছে উত্তর ত্রিপুরায়। বনধের বিরাট প্রভাব পড়েছে কাঞ্চনপুর ও পানিসাগর এলাকায়। জনজীবন স্তব্ধ। এমনকি স্থানীয় সরকারি আধিকারিকদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

শনিবার শরণার্থী ব্রু দের ডাকা বনধের সময় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়ায়। আন্তঃরাজ্য সীমানায় কাঞ্চনপুর ও পানিসাগর জুড়ে বিক্ষোভকারী ব্রু ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হয়। এর পরেই পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাঁর নাম শ্রীকান্ত দাস। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর হয়েছে বিস্তর। পুলিশের গুলিতে জখম আরও ৫ জন। তাদের চিকিৎসার জন্য পানিসাগর নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ২৩ বছর ধরে ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তের কাঞ্চনপুরে রয়েছেন বহু ব্রু উপজাতি শরণার্থী। তারা গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে মিজোরাম ছেড়ে ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। পূর্বতন বাম সরকারের আমলে তাদের শরণার্থী শিবিরে রাখা হয়েছিল।

ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম জমানার অবসান হয়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকার। সম্প্রতি বিরোধী সিপিআইএম দাবি করে, ব্রু শরণার্থী সমস্যা ঘোরতর আকার নিতে চলেছে।

বার্তা সূত্র

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।