Skip to content

‘উপজাতিরা স্বতন্ত্র সংস্কৃতির হলেও মূল জনগোষ্ঠীর অপরিহার্য অংশ’

উপজাতিরা সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী হলেও তারা মূল জনগোষ্ঠীর অপরিহার্য অংশ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদ ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বই মেলায় নৃগোষ্ঠী উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।

দীপংকর তালুকদার বলেন, যুগ যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জাতিসত্তা এবং অ-উপজাতিরা বসবাস করছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে আসছে। এ দেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত নিজস্ব আচার, উৎসব ও সংস্কৃতি। দারিদ্র্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠের আগ্রাসী সংস্কৃতির চাপে আজ তা প্রায় বিপন্ন। তবুও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা ধরে রেখেছেন নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উৎসবগুলোকে। যুগে যুগে যা সমৃদ্ধ করেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাহিত্যকে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি অদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম। পাংখোয়াদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে, তবে তা মৌখিক ভাষা। এদের ভাষার কোন লিখিত রূপ নেই। তা সত্ত্বেও ওই ভাষায় গানের অভাব নেই। তিনি পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসী ও উপজাতি ভাষাভাষী সাহিত্য সংস্কৃতিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার জন্য লেখক ও গবেষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অমর একুশে বই মেলা কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর ড নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুপ্রুই চৌধুরী। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

প্রধান বক্তা পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুপ্রুই চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখনো একুশটি নৃগোষ্ঠী টিকে আছে। সাঁওতাল, ওঁরাও, পাহান, মাহালি, মুশহর, কড়া, তুরি ও ভুনজার সম্প্রদায়ের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, অলংকার, হাতিয়ারআমাদের সংস্কৃতি হরিয়ে যেতে বসেছে। তিনি বলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সকল সম্প্রদায় উন্নয়নের ধারায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। বেশির ভাগ লোকই বাস করে খাস জমিতে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা পাননি। এখানকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়ে আসছে। এসব সহায়তা পাওয়া তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার। কাউকে পেছনে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

স্বাগত বক্তব্যে বইমেলা কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর ড নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী উৎসব এর মাধ্যমে আমরা তাঁদের ইতিহাস ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারব।

অনুষ্ঠান শেষে নৃগোষ্ঠীর লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এতে অংশ নেন বান্দরবান থেকে আগত মারমা শিল্পীরা।

(ঢাকাটাইমস/৩মার্চ/এআর)



বার্তা সূত্র