Skip to content

ইতালির রাস্তায় ফারাও নাচ!

ইতালির রাস্তায় ফারাও নাচ!

সড়কে রেড সিগনাল। গাড়ি থেমে আছে। হঠাৎ শিল্পীরা তাদের পারফরম্যান্স শুরু করেন। ৫৮ সেকেন্ড চলে এ পারফরম্যান্স। কারণ এরপরই যান চলাচল শুরু হয়ে যায়। ইতালির রাস্তায় প্রাচীন মিসরের সম্রাট টুটানখামুনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এমন ‘টার্টিং’ নাচ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাজখাঁই ইলেকট্রো বিটের ছন্দের সঙ্গে নিখুঁতভাবে তাল মিলিয়ে এ নাচ করে ‘আরবান থিয়োরি’ নামে ইতালীয় এক নৃত্যগোষ্ঠী। তাদের তথাকথিত ‘টাটিং’ স্টাইল নাচ সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ অনুরাগীর মন মাতিয়ে চলেছে।

গোষ্ঠীর সদস্য ফাবিয়ানো পালিয়েরি বলেন, ‘টাটিং অনবদ্য এক শৈলী। হিপহপের সঙ্গে এর তেমন সম্পর্ক নেই; বরং অনেকটা স্ট্রিট ডান্স বা পপের মতো। তবে একেবারে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।’ আরেক সদস্য রিকার্ডো মারানো বলেন, ‘সামনে রম্বাস বা চৌকো জ্যামিতিক আকার দেখা যায়। নাচতে না জানলেও দর্শকদের সেই নকশা চোখে পড়ে।’

‘হোয়াট এ উইয়ার্ড পিয়ানো’ নামের পারফরম্যান্স আসলে মোৎসার্টের সংগীতের তালে একধরনের ‘হ্যান্ড ব্যালে’র মতো।

‘আরবান থিয়োরি’র নেপথ্যে রয়েছেন রিকার্ডো মারানো, লোরেন্সো পিয়ান্টোনি, ডাভিডে সালা, জেসিকা দেমারিয়া, ফাবিয়ানো পালিয়েরি ও লেওনার্দো সিগোনা। নিখুঁত মুভ আয়ত্ত করতে তারা দিনে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টা অনুশীলন করেন। হাতেনাতে তার ফলও পাওয়া যায়। আরবান গ্র্যাভিটি, মন্ত্র ও আরবান ক্লকের মতো হিট নাচগানের দৌলতে শুধু টিকটক প্ল্যাটফর্মেই তাদের ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে।

রিকার্ডো মারানো বলেন, ‘নাচ আমার অন্তরাত্মা। নাচ ছাড়া আমাদের অস্তিত্বই সম্ভব নয়। সব অর্থেই নাচ আমাদের জীবন। সকালে উঠে নিজেকে প্রশ্ন করি, আজ কী করব? উত্তর অবশ্যই নাচ। এটি সত্যিই অসাধারণ।’

ইতালির উত্তরে লিগুরিয়ান উপকূল এই গোষ্ঠীর ডেরা। নাচের শিক্ষক জেসিকা দেমারিয়ার সঙ্গে চার বছর ধরে সদস্যরা ‘আরবান থিয়োরি’ নামের ডান্স স্কুলে নিজেদের স্টাইলের বিকাশ ঘটিয়ে চলেছেন। গ্রুপের নামও সেটাই রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালে তারা ‘ইতালিস গট ট্যালেন্ট’ নামের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত যান।

নাচের প্রশিক্ষক জেসিকা দেমারিয়া বলেন, ‘এমন অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পর আমরা আরও বেশি করে নাচে মনোযোগ দিতে শুরু করি। আমরা এত কঠিন পরিশ্রম করতে চেয়েছিলাম, যাতে আমরা নিজেদের নেশাকে পেশায় রূপান্তরিত করতে পারি।’

‘টাটিং’ শৈলীর পেছনে প্রাচীন মিসরের সম্রাট টুটানখামুনের নাম লুকিয়ে রয়েছে। শিশু বয়সেই ডাভিডে সালা এই নৃত্যশৈলী আবিষ্কার করেছিলেন এবং ইউটিউব ভিডিও দেখে প্র্যাকটিস করতেন।

ডাভিডে সালা বলেন, ‘আগে মানুষ এটিকে “ইজিপ্সিয়ান স্টাইল” বলত। কারণ সেটির সঙ্গে ফারাওদের মুভমেন্টের মিল ছিল। প্রায় ২০ বছর আগে সেই শৈলী থেকে নতুন এক ধারা উঠে আসে, যার আওতায় ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত হাত নাড়াচাড়া করা হয়।’



বার্তা সূত্র

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ