Skip to content

‘আধিপত্য’ দেখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় জয়ের ইতিহাস লিখলো বাংলাদেশ

ছবি- ক্রিকইনফো

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে কোনও জয় না পাওয়া বাংলাদেশ ইতিহাস নতুন করে লিখলো। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ১০ম তম ওয়ানডেতে এসে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয় পেলো বাংলাদেশ। তাও ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় আধিপত্য দেখিয়ে। সেঞ্চুরিয়নে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৮ রানে হারিয়েছে তামিম বাহিনী।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয়ের জন্য মরিয়া ছিল টাইগাররা। সেঞ্চুরিয়ানে আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩১৫ রানের জয়ের বড় লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ২৭৬ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ব্যাট হাতে সাকিব, ইয়াসির ও লিটনের পর বল হাতে তাসকিন, মিরাজ ও শরিফুলের অসাধারণ পারফরম্যান্স নৈপূন্যে সহজ জয় পায় বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরিয়নে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তাসকিন ও শরিফুলের শুরুর স্পেলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এই দুই পেসার পাওয়ারপ্লেতে তুলে নেয় ৩ প্রোটিয়া ব্যাটারকে।

শরিফুল জানেমান মালানকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন। মালান ফেরেন ব্যক্তিগত ৪ রানে। এরপর তাসকিন এক ওভারে ফেরান দুই ব্যাটারকে। কাইল ভেরেইন ২১ রান করলেও মার্করাম রানের খাতা না খুলেই বিদায় নেন। এরপর ব্যাট হাতে ৮৫ রানের জুটি গড়েন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও টেম্বা বাভুমা।

বাভুমাকে ব্যক্তিগত ৮১ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবার ম্যাচে ফেরান শরিফুল। তবে মিলারকে নিয়ে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিল ডুসেন। এই দুই ব্যাটার ৭০ রানের জুটি গড়েন। নিজের শেষ ওভারে এসে ডুসেনকে ব্যক্তিগত ৮৬ রানে ইয়াসিরের অসাধারণ ডাইভিং ক্যাচে পরিণত করে তাসকিন ম্যাচের পাল্লা নিজেদের দিকে ভারী করেন।

ডুসেন ফিরলেও বাংলাদেশের জন্য আতঙ্ক হয়ে ছিল মিলার। তবে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মিরাজ। প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ৩৮ রান দেওয়া মিরাজ পরের স্পেলে এসে ৫ ওভারে ২১ রানেই নেন ৪ উইকেট।

প্রোটিয়ানদের আশা হয়ে থাকা অর্ধশতক হাঁকানো মিলারকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে স্বাগতিকদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন মিরাজ। মিলার ৫৭ বলে ৭৯ রান করেন। ২৪২ রানে ৯ উইকেট নেওয়ার পর কিছুটা ঢিমেতালে বোলিং-ফিল্ডিং করে বাংলাদেশ। ফলে শেষ উইকেট জুটিতে ৩৪ রান যোগ করে প্রোটিয়ানরা।

যদিও এটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ ২৩ রান করা কেশভ মহারাজকে ফেরালে ২৭৬ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ ৬১ রানে ৪ উইকেট নেন। এছাড়া অসাধারণ বোলিং করা তাসকিন ৩৬ রানে নেন ৩ উইকেট। শরিফফুল ২টি ও মাহমুদউল্লাহ নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে তিন ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩১৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। দেশটিতে ওয়ানডে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ছিল কিম্বারলিতে ৭ উইকেটে ২৭৮ রান।

ম্যাচের শুরুতে সাবধানী ক্রিকেট খেলেন দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল-লিটন দাস। শুরুর ১৫ ওভারে রান ছিল মাত্র ৪৬, তাও বিনা উইকেটে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে ব্যাট হাতে খোলস ছেড়ে বের হয় দুই ওপেনার।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন তামিম-লিটন। তাদের ওপেনিং জুটিতে আসে ৯৫ রান। তামিম আন্দিলে ফেহলুকওয়াইয়োর এক নিরীহ বলে এলবির শিকার হয়ে ফিরলে ভাঙে জুটিটি। টাইগার অধিনায়ক ৩ চার ও ১ ছয়ে ৪১ রান করে ফেরেন। এর আগে দেশটিতে খেলা ৯ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি ছিল ৪৬ রানের।

তামিম ফেরার পর ফিফটি স্পর্শ করে ফেরেন লিটনও। ৬৭ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৫০ রান করার পর কেশভ মহারাজের বলে বোল্ড হয়ে যান লিটন। এরপর মুশফিক দ্রুতই ফেরেন ৯ রান করে।

দলীয় ১২৪ রানে ৩ উইকেট যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন সাকিব-ইয়াসির। ১৩ ওভার ৩ বলে ১১৫ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। এর আগে ২০১৭ সালে ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিমের ৯৩ রানের জুটি ছিল সর্বোচ্চ।

ব্যাট হাতে ঝড়ো ক্রিকেট খেলা সাকিব এই ম্যাচে ফিফটির ‘ফিফটি’ হাঁকান। ৬৪ বলে ৭ চার ও ৩ ছয়ে ৭৭ রান করেন এই ব্যাটার। এনগিডির বলে স্কুপ করতে গিয়ে এলবির শিকার হয়ে ফেরেন।

সাকিবের পর ইয়াসিরও অর্ধশতকের দেখা পান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি এই ব্যাটার। ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক ছুঁয়েই রাবাদার বলে তার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইয়াসির। ৪৪ বলে ৪ চার ও ২ ছয়ে ৫০ রান করেন এই ডানহাতি।

সাকিব-ইয়াসিরের বিদায়ের পর আফিফ, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদি মিরাজ সবাই ব্যাট হাতে ছোট ছোট অবদান রাখেন। মাহমুদউল্লাহ ২৫, আফিফ ১৭ ও মিরাজ ১৩ বলে ২ ছয়ে করেন ১৯ রান। টাইগারদের পক্ষে ছয়জন ব্যাটার একশ এর অধিক স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেন এই ম্যাচে। শেষ ১০ ওভারে ৯১ রান তোলে টাইগাররা।

প্রোটিয়ানদের পক্ষে মার্কো জানসেন ও কেশভ মহারাজ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়াও লুঙ্গি এনগিডি, রাবাদা ও ফেহলুকওয়াইয়ো ১টি করে উইকেট শিকার করেন।



বার্তা সূত্র