Skip to content

আঞ্চলিক সংযোগে অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও চীন

আঞ্চলিক সংযোগে অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও চীন

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর পৃষ্ঠপোষকতায়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগে অবদান রাখতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ ও চীন । শনিবার (২৭ মে) ঢাকায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত জননিরাপত্তা বিষয়ে আয়োজিত সংলাপে, উভয় দেশের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সান উইডং।

উভয় পক্ষ বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া, অনলাইন জুয়া এবং মাদক পাচারের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা তৈরিতে চীন তার সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আবহাওয়া স্যাটেলাইটের তথ্য শেয়ার করায়, চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রোহিঙ্গা সংকটসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। চীনা পক্ষ বাংলাদেশ থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, টেকসই এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সহজতর করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভাইস মিনিস্টার সান উইডং উল্লেখ করেন যে দ্রুত প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং সমগ্র অঞ্চলের জন্য উপকারী হবে। পাইলট প্রজেক্টের প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নিজ নিজ প্রতিনিধিদের মিয়ানমারে ‘গো এন্ড সি’ সফর এবং বাংলাদেশে ‘আসুন এবং কথা বলুন’ সফরের ব্যবস্থা করার জন্য চীনা পক্ষ বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব, সহযোগিতার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানান এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে, টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

উভয় প্রতিনিধি দল পারস্পরিক স্বার্থ এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এক চীন নীতিতে অব্যাহত সমর্থনের জন্য, বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীনা পক্ষ।

কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় ভ্যাকসিন তৈরির জন্য চীনের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ আবারো তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে। উভয় পক্ষ বাংলাদেশের বিভিন্ন মানের অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল এবং পদ্মা সেতু রেল সংযোগের মতো মেগা প্রকল্পের আসন্ন উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়েছে।

উভয় পক্ষই বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে কয়েকটি অতিরিক্ত প্রকল্প প্রস্তাব সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আরো এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষ ১ সেপ্টেম্বর ২০২২ থেকে কার্যকর হওয়া ৯৮ শতাংশ পণ্যে, শুল্ক এবং কোটা ফ্রি (ডিএফকিউএফ) অ্যাক্সেস ব্যবহার করে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।

চীনা পক্ষ, প্রয়োজনীয় মান্যতা অনুসরণ করে বাংলাদেশ থেকে মৌসুমী ফল এবং হিমায়িত খাবার আমদানিতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে, চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে, ডিএফকিউএফ কভারেজের মধ্যে শাকসবজি, ওষুধ, কাঁচা চামড়া, ফুটওয়্যার, নন-নিট পোশাকের মতো রপ্তানি আইটেম অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চীনা উপমন্ত্রী চট্টগ্রামে চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আশ্বাস দেন। তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-গুয়াংঝু সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার জন্য চীনা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সময়মত যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে, দুই পক্ষ নিয়মিত কনস্যুলার পরামর্শ চালু করতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বায়োটেকনোলজিতে উদ্ভাবনের বিষয়ে চীনের সঙ্গে এক সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা