আগামী বছরের গোড়ায় সুন্দরবন চলে আসছে হাতের কাছেই!

আগামী বছরের গোড়ায় সুন্দরবন চলে আসছে হাতের কাছেই!

এ বার আপনার হাতের মুঠোয় বাদাবন। জলভ্রমণ এড়াতে চাইলে পারবেন সরাসরি সড়কপথেই পৌঁছতে। এ বার আপনার লেন্সের সামনে আরও সহজলভ্য হতে চলেছে কুমির ও দক্ষিণরায়।

সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে আসলে পর্যটনে বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই ২২টি সেতুর মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে এখানকার একাধিক ব্লক।

স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর বিরাট সুফল ফলবে। ওই অঞ্চলে তৈরি হবে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ। পাশাপাশি সুবিধা হবে পর্যটকদেরও। কেননা এ বার গাড়িতেই পৌঁছে যাওয়া যাবে সুন্দরবনের সেই সব অংশে এতদিন যেখানে সহজে পৌঁছনো যেত না। ফলত গতি আসবে পর্যটন-শিল্পে। কোভিড-আবহে ধুঁকতে থাকা পর্যটনক্ষেত্রে লক্ষ্মীলাভও হবে রাজ্যের।

সুন্দরবন অঞ্চলে সড়কপথ থাকলেও ওই এলাকার পরিবহণ এখনও মূলত নদী-নির্ভরই। সেই নদী-নির্ভরতা কমাতেই এ বার সেতুর পরিকল্পনা। জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কাকদ্বীপ-পাথরপ্রতিমা, বাসন্তী-গোসাবা, নামখানা-কাকদ্বীপ, জয়নগর-মথুরাপুর, হাড়োয়া-বারাসত। নামখানা ব্লকে তৈরি হচ্ছে তিনটি সেতু। পাথরপ্রতিমায় দু’টি। ক্যানিং ১ এবং ২ নম্বর ব্লককে জুড়তে মৌখালি খেয়াঘাটে তৈরি হচ্ছে সেতু।

উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনে সেতু গড়ে উঠছে বালি-বোয়ালিয়া, গোমতী ও বিদ্যাধরী নদীতে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সেতু গড়ে উঠছে মাতলা, বিদ্যা, গুন্ডাকাটি, মণি ইত্যাদি নদীর উপর। রাজ্য সরকার চাইছে, বিধানসভা ভোটের আগেই এইসব সেতুর মাধ্যমে কাছাকাছি চলে আসুক কলকাতা ও সুন্দরবন।

নির্মীয়মাণ ২২টি সেতুর মধ্যে ১২টি বড়, ১০টি ছোট আকারের। দক্ষিণে সেতুর সংখ্যা ১৯, উত্তরে ৩। ওই বড় ধরনের সেতুগুলির কোনওটি তৈরি করছে পূর্ত দফতর, কোনওটি ‘হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স’ (এইচআরবিসি)। আর ১০টি ছোট সেতু নির্মাণের দায়িত্বে ‘সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ’।

সুন্দরবন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। প্রতি বছরই এখানে দেশের পাশাপাশি বিদেশেরও বহু পর্যটক আসেন। সন্দেহ নেই, সেই সব পর্যটকেরাও এবার অনেক সহজে যেতে পারবেন সুন্দরীবন ও দক্ষিণরায়ের রাজ্যে। স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি জনপ্রিয় হবে সুন্দরবন ভ্রমণও।

বার্তা সূত্র: জি নিউজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।