আওয়ামী লীগে প্রীতি নেই, আছে সমুদ্রসমান মহামানব বঙ্গবন্ধুর প্রতি আদর্শিক শ্রদ্ধা

সাইমুম হক * আমি কখনও আওয়ামী লীগ করিনি। দল হিসেবে অন্ধ আওয়ামী লীগ প্রীতিও নেই আমার। কিন্তু এই রাজনৈতিক দলের নামটি আমার চেতনায় – মননে সব সময়ই দোলা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্ববৃহৎ শক্তি সেটি আমার আদর্শিক মিল। কিন্তু, প্রায় টানা একযুগ ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ তার প্রতি পক্ষপাতের কোন কারণ ঘটায়নি । অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে দেশে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে বটে, ভগ্নাবস্হা থেকে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত করে পৃথিবীর মানচিত্রে দেশকে মর্যাদার আসনেও সমাসীন করেছে। উন্নত দেশের কাতারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন দেখা সোনার বাংলাদেশকে”। বিষয়টি আমার খুব ভালো লাগলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক তাতেও অতটা প্রেমময় হয়নি ।

আমার অস্তিত্বে- আমার চেতনে আওয়ামী প্রেমটা মূলতঃ এই দলের তখনকার এবং এখনকার কান্ডারির প্রতি ব্যক্তি আদর্শকেন্দ্রীক। বিশেষ শ্রদ্ধার। বাস্তবতার নিরিখে রাষ্ট্রপরিচালন নীতিতে তখনকার এবং এখনকার আওয়ামী কান্ডারির মধ্যে যোজন দূরত্ব হলেও দুইয়ের মধ্যে একই রক্ত প্রবহমান। আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রেমময় সম্পর্ক, আমার প্রাণের স্পন্দনের সবটাই সেই অকুতোভয় দেশপ্রেমিক, মহামানব বাংলাদেশ নামক আমাদের স্বাধীন আবাসভূমির স্রষ্টা- স্হপতি ও বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাজতান্ত্রিক আদর্শ এবং তাঁর সাম্যের নীতির সাথে সম্পর্কিত ।

আর মাত্র একদিন বাকী, ইতিহাসের সেই কলঙ্কিত কালো দিন, ১৫ আগস্ট। যেদিন বাংলাদেশের শোষিত- নিপীড়িত মানুষের ভাগ্যাকাশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামের সোনালী সূর্য্যটাকে তাঁর স্বাভাবিক নিয়মে নয়, আতিলোভী নরপিশাচদের দুর্বৃত্তায়নে অস্তমিত হতে হয়েছিল। পাপিষ্ঠরা শিশুপুত্রসহ জাতির জনকের পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে পৃথিবীময় বাঙালি জাতিকে অকৃতজ্ঞ, নিন্দিত ও ঘৃণিত করেছিল।

গ্রাম-গঞ্জের অসহায় কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখা সে সময়ের সাড়ে ৭কোটি বাঙালি প্রায় চোখের পলকেই এতিম হয়ে যায়। সেই অক্টোপাসের থাবায় একটানা একুশ বছর নিরাশ্রয় বাঙালি জাতি হয় নাস্তানাবুদ। মাঝে পাঁচ বছর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশকে টেনে তুলবার প্রয়াস পেলেও সেই অশুভ ছায়ার প্রতিভূরা আবারও হানা দেয়। অন্ধকারের দখলে ফের নিমজ্জিত হয় দেশের মানুষ।

বঙ্গবন্ধুর রক্তকনিকার শেষটুকুও শুষে নিতে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে বহুবার টার্গেট করা হয়েছে। ক্ষমতালোভী দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগে সময়ে সময়ে ব্যাপক রক্তপাত আর প্রাণহানি ঘটালেও মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছোট বোন শেখ রেহেনাসহ প্রাণে বেঁচে যান। অনেক বেশি প্রাজ্ঞ হয়ে ওঠা শেখ হাসিনা এবার শক্ত হাতে হাল ধরেন। দেশ সমৃদ্ধির শিখরে ওঠার পথ পায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই যে সাম্যের নীতি, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের দিশা, ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শ অনেকটাই অপসৃত হয়। দুঃখ সেখানেই।

বলছিলাম, ছাত্রাবস্থায়ই আমার শিরা-উপশিরায় সমাজতন্ত্রের বীজ রোপিত। সেইযে তারুণ্যে সাম্যের দীক্ষা নেয়া,  সেটাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের প্রতি আমার ভালবাসার সম্পর্ককে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে কার্ল মার্কস – লেনিন আর মাও সে তুং-য়ের চিন্তাধারায় দেশে শোষিতের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সমাজতন্ত্রের চেতনা আজও লালন করছি। সেই পতাকাকে মুক্তির নিশান মেনে বুকে বয়ে বেড়াচ্ছি।

ব্রিটিশ-ভারত-পাকিস্তান হয়ে বঙ্গবন্ধু যে মানবাধিকার দর্শনে এদেশের নিষ্পেষিত মানুষকে দীক্ষিত করেছিলেন, তাদেরকে এক মন্ত্রে একত্রিত করে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের অভ্যুদয় ঘটিয়েছিলেন, সর্বোপরি নিজে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির চোখের মণি হয়েছিলেন,  শুধু তাই  নয়, সমগ্র দুনিয়ার মুক্তিপাগল মানুষের কাছে নিজেকে আইডলে পরিণত করেছিলেন। তাঁর অত্যন্ত কম সময় পাওয়া জীবৎকালের অসংখ্য ভাষণ, বাণী ও বক্তৃতার ছত্রে ছত্রে সেই দর্শনের অত্যুজ্জ্বল সাক্ষ্য রয়েছে।

দূর্ভাগ্য, এমন মহাপ্রাণ ব্যক্তির সাক্ষাৎ নৈকট্য লাভের সুযোগ আমার হয়নি। বয়সে এগোতে পারিনি। দুরাচারীরা আমাদের প্রজন্মকে সেই সুযোগ পেতে দেয়নি। কিছু ভালভাবে বুঝে ওঠার আগেই আমাদের কাছ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে । কিন্তু দৈহিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা গেলেও হাজার চেষ্টায়ও ওই পাপীর দল তাঁর আদর্শকে নিঃশেষ করতে পারেনি। আমরা তাঁর উত্তরসূরী। অনেক অপচেষ্টা হলেও বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের গৌরবোজ্জ্বল পিতা বঙ্গবন্ধুর সত্য ইতিহাস চেপে রাখা যায়নি। আর কোনদিন তাঁকে মুছে ফেলাও অসম্ভব।

“বঙ্গবন্ধুর মানবাধিকার- দর্শন শীর্ষক বক্তৃতার সার সংক্ষেপ ও সংবাদ-ভাষ্য”-এ তার স্বরূপ সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়। কতবড় মানবতাবাদী ও বিশাল হৃদয়ের মানুষ তিনি ছিলেন, তার কিয়দংশ আমরা তাঁর সে সময়ের ভাষণের মধ্য দিয়ে জানতে পারি। “আজকের বাংলাদেশ নামক স্বাধীন দেশটি পাকিস্তান আমলে সে সময়ের দখলদার সরকার উদ্দেশ্যহীনভাবে পরিচালিত করেছে। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এডহক ভিত্তিতে চালিয়েছে এ দেশকে”। বঙ্গবন্ধু সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি , আদর্শ সন্নিবেশের আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হন। স্বাধীনতার পর তাই দেশকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেন। সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা দেন। পরে সংবিধানে এগুলো গৃহীত হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু এসব মূলনীতির ব্যাখ্যা করেন এবং দেশকে গড়ে তুলতে এর বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। “১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল ৪ মূলনীতির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, চারটি স্তম্ভের উপর বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন হয়েছে, এই চারটা স্তম্ভের উপরই বাংলার স্বাধীনতা চলবে। ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তারিখে গণপরিষদে মূলনীতিগুলোর আবারও বিস্তারিত বিবরণ দেন। একই বছরের ৭ জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বলেন, আগে শ্লোগান ছিল ৬ দফা, এখন ৪টা স্তম্ভ। সংক্ষেপে তিনি এ মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যাও করেন। তিনি বলেন, আমার বাংলার সভ্যতা, আমার বাঙালি জাতি নিয়ে হল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এটা হল এক নম্বর স্তম্ভ। দ্বিতীয় স্তম্ভ সমাজতন্ত্র। এ সমাজতন্ত্র দুনিয়া থেকে ভাড়া করে আনতে চাই না , এ সমাজতন্ত্র হবে বাংলার সমাজতন্ত্র। কিন্তু সমাজতন্ত্র যেখানে আছে, সে দেশে গণতন্ত্র নেই। দুনিয়ায় আমি বাংলার মাটি থেকে দেখাতে চাই যে, গণতন্ত্রের মাধ্যমে আমি সমাজতন্ত্র কায়েম করবো। চতুর্থত, বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষতা, মানে ধর্মহীনতা নয়, মুসলমানরা মুসলমানদের ধর্ম পালন করবে। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নেই, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। ১৯৭২ সালের ৩ জুলাই কুষ্টিয়ায় এবং ৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে চার মুলনীতির আরো বিস্তারিত বর্ণনা করেন। বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বক্তৃতায় চার মূলনীতির বিষয় বারবার এলেও তিনি সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা দুটি মূলনীতি নিয়ে বেশি আলোচনা করেছেন। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং এর জন্য ব্যাংক, বীমা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। পুরাতন পুঁজিবাদের স্থলে সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতি কায়েমের পথে এটাকে তিনি একটি দুঃসাহসিক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জাতীয়করণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন ৩০ এপ্রিল মে দিবস উপলক্ষে দেয়া বক্তৃতায়। তিনি বলেন, নয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কায়েমে শ্রমিকদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। যা উৎপাদন হবে তা শ্রমিক, কৃষক ও বাংলাদেশের সব মানুষের কল্যাণে লাগবে।”

কুষ্টিয়ায় একটি বক্তৃতার কয়েক লাইন বক্তব্য থেকে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে ওঠে – “সম্পত্তি এখন সাড়ে সাত কোটি লোকের। যা উৎপাদন হবে সাড়ে সাত কোটি লোক ভোগ করবে। এদেশ শোষণহীন সমাজ হবে। এদেশ সমাজতন্ত্র হবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না। ” ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে বলেন, “গরিব হবে এই রাষ্ট্র ও সম্পদের মালিক, শোষকরা হবে না।” সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি প্রশিক্ষিত ক্যাডার তৈরীর ওপর জোর দেন।

বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে কৃষকদের ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির বকেয়া খাজনা মওকুফ, জমির সর্বোচ্চ সিলিং ১০০ বিঘা করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেন।

শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে এই উদাত্ত আহ্বান জানান “শ্রমিক ভাইয়েরা আল্লাহর ওয়াস্তে একটু উৎপাদন করো। আল্লাহর ওয়াস্তে মিল খেয়ে ফেলো না। ”

তাঁর সরকার প্রথম বাজেটে কৃষকদের জন্য ১৯৭২-৭৩ সালে উন্নয়ন বাজেটের ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১০৩ কোটি বরাদ্দ রাখে। কৃষকদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ফুটে উঠেছে অপর একটি বক্তৃতায়। “আমি শহরে পয়সা খরচ করতে পারবো না। যা টাকা পাব, অধিকাংশ যত পারি গ্রামের কৃষকদের জন্য আমি ব্যয় করতে চাই। কারণ কৃষক হলো দেশের ও জাতির মেরুদন্ড”। তিনি টাঙ্গাইলের এক বক্তৃতায় বলেন, ” এই রাষ্ট্রের মানুষ হবে বাঙালি”। তাদের মূল মন্ত্র “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। ” সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর পরিষ্কার আরও বক্তব্য পাওয়া যায় ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায়। তিনি বলেন,” রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে, যারা সাম্প্রদায়িক তারা হীন, নীচ, তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে সে কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। আপনারা যারা এখানে মুসলমান আছেন তারা জানেন যে, খোদা যিনি আছেন তিনি রাব্বুল আলামিন -, রাব্বুল মুসলেমিন নন। হিন্দু হোক, খ্রিস্টান হোক, বৌদ্ধ হোক, সমস্ত মানুষ তার কাছে সমান । ”

আমাদের মহান জাতির পিতার স্বল্পকালীন জীবনের কীর্তি সুবিশাল। মহাসমুদ্রের সঙ্গে তুলনীয় তাঁর জীবনকথা। একজীবনে তাঁকে নিয়ে গবেষণা শেষ হবার নয়। সমগ্র বঙ্গবন্ধুকে জানা-পড়া বেশ কঠিন। এই নিবন্ধের শেষাংশে তিনি কি ছিলেন, কেমন মনের মানুষ তার কিঞ্চিৎ নতিজা উপস্থাপিত হলো। মহান সৃষ্টিকর্তা শহীদ  এই মহমানবকে স্বপরিবারে বেহেশতের সর্বোত্তম জায়গায় স্হান দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা  – লাল সালাম।

(কৃতজ্ঞতা : ১৯৭১’র বিজয় অতঃপর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি / বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার সার সংক্ষেপ ও সংবাদ-ভাষ্য / চরমপত্/ মুুুুক্তিযুদ্ধে জাফলং থেকে হাফলং)

* লেখক- সাইমুম হক, সিনিয়র সাংবাদিক – মানবাধিকার কর্মী, উপদেষ্টা বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email