Skip to content

আই এল ও : সরকারের বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের শ্রমিকরা

আই এল ও : সরকারের বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের শ্রমিকরা

শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের তরফে বারবার সময় নেয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডি হতাশ। সংস্থাটি মনে করে, সময় নেয়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সংস্থাটির ৩৪৩তম অধিবেশনে এই হতাশা ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, প্রতি বছর বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে ৩৫ হাজার শ্রমিক মারা যায়। আহত হয় ৮০ লাখ। যৌন সহিংসতা কখনো কখনো ব্যাপক আকার নেয়। দারিদ্র্য মজুরির তাগিদে শ্রমজীবী মানুষ চাকরিতে আটকা পড়ে যায়। আইএলও’র গভর্নিং বডি বাংলাদেশ সরকারকে ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার নভেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনও (আইটিইউসি) একই মত দিয়েছে। ১৬৩টি দেশে সংগঠনটি ২০০ মিলিয়ন শ্রমিকের স্বার্থ দেখভাল করে থাকে। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শরণ বুরো বলছেন, প্রতিদিন এই বিলম্বের ফলে শ্রমজীবী মানুষের জীবন নানা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সকল শ্রমিকের জন্য অধিকারের একটি ভিত্তি রচিত হবে। তবে সরকারকে অবশ্যই শ্রমিক এবং তাদের ইউনিয়নগুলোর কথা মাথায় রেখে সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। শুধু তাই নয়, সরকারের কাছে অনিরাপদ কাজের পরিবেশের জন্য নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে এবং স্বীকৃতি দিতে হবে যে, ইউনিয়নগুলো শ্রমিকদের ন্যায় বিচার এবং তাদের সুরক্ষা প্রদান করবে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে।

আইটিইউসি এক্ষেত্রে তিনটি দাবির কথা উল্লেখ করেছে। এক, আধুনিক শিল্পের ভিত্তি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন। দুই, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ যাতে করে কর্মীদের সঙ্গে মালিকপক্ষের বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন হয়। তিন, সব সেক্টরে শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি। বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করা এই সংগঠনটি মনে করে, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সমর্থ হবে।

সংগঠনটি সরকার কর্তৃক নিষ্ক্রিয়তার দশটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। বলেছে, ত্রিপক্ষীয় মনিটরিং বা পরামর্শমূলক কমিটি গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। সেখানে পর্যবেক্ষণের অভাব রয়েছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা পদ্ধতি গৃহীত হয়নি। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ এখনো শ্রমিক ও শ্রমপরিদর্শক ও পেশাগত স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত অফিসারদের ওপর নিজেদের অধিকার কায়েম রেখেছে। শ্রম পরিদর্শন সিস্টেমগুলো কার্যকর হয়নি। স্বাধীন ইউনিয়নগুলো এখনো বৈষম্যের শিকার। নেয়া হয়নি সহিংসতা মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ। ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগের কোনো ডাটাবেজ তৈরি করা হয়নি। ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং কার্যকলাপের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে আশুলিয়ায় বিক্ষোভের সময় হামলার জন্য পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করা হয়নি। আইএলও-এর সুপারিশ অনুযায়ী একটি স্বাধীন তদন্ত ‍প্রক্রিয়া চালাতেও ব্যর্থ হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রদানের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কীভাবে শ্রমিকরা অভিযোগ দায়ের করবে কিংবা অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা পাবে সে বিষয়ে সচেতন করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

আইএলও-এর রিপোর্টে বলা হয়, সরকার যখন প্রতিবেদন তৈরি করছে তখনই ঢাকায় জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ