Skip to content

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় ৫ আইনজীবী কারাগারে

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় ৫ আইনজীবী কারাগারে

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় ঢাকার শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শেষে পাঁচজন আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আইনজীবীরা হলেন- মোহাম্মাদ ওসমান চৌধুরী, কাজী বশির আহমেদ, মো. এনামুল হোসেন সুমন, মো. হাসানুজ্জামান তুষার ও মো. তরিকুল ইসলাম।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবুল কালাম আযাদ পাঁচ আইনজীবীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা করে। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মারধর, ভাঙচুরের ঘটনায় স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী ও বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অনুসারী সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ জন আইনজীবীকে অভিযুক্ত করে শাহবাগ থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৮ মার্চ মামলা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী (সাইফ)। মামলায় আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয় ৬ ও ৭ মার্চ। ভোট গণনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও মারধরের ঘটনা ঘটে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতেই ভোট গণনার পক্ষে সোচ্চার হন সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্পাদক প্রার্থী শাহ মনজুরুল হক ৮ মার্চ (শুক্রবার) বেলা ৩টায় ‘দিনের আলোতে’ ভোট গণনা চাচ্ছিলেন। এ বিষয় নিয়েই একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে হট্টগোল শুরু হয়। শুক্রবার ভোরে মারামারির ঘটনাও ঘটে। যেখানে একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে আক্রমণ করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেটি ‘বহিরাগতের হামলা’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

পরে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফ তাঁকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শুক্রবার রাতে মামলা করেন। যেখানে এই নির্বাচনের স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি এবং বিএনপি অনুসারী প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতেই এই মামলার অভিযুক্ত বিএনপি অনুসারী ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর নাহিদ সুলতানা যুথীর বাসায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি অনুসারী সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তাঁর ৪ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন ঢাকার একটি আদালত।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে হামলা-মামলার প্রেক্ষাপটে সোমবার তিনজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এই তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন; মো. জাকির হোসেন, কাজী বশির আহমেদ ও শ্যামা আক্তার।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর রুনা নাহিদ আকতারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের মধ্যে মো. জাকির হোসেন ও কাজী বশির আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে হামলার ঘটনায় আহত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফের করা মামলার অভিযুক্ত।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ঘটনাবহুল নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (সাদা প্যানেল) থেকে ১০ জন নির্বাচিত হন। সম্পাদক পদসহ এই প্যানেলের নির্বাচিতরা হলেন- সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক, সহ-সভাপতি রমজান আলী শিকদার ও দেওয়ান মো. আবু ওবাঈদ হোসেন সেতু, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল হুদা আনসারী, সহ-সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ হুমায়ন কবির এবং সদস্য পদে মো. বেলাল হোসেন, মো. রায়হান রনি, রাশেদুল হক খোকন ও খালেদ মোশাররফ।

বিএনপি অনুসারী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) থেকে ৪ জন নির্বাচিত হন। সভাপতিসহ এই প্যানেলের নির্বাচিতরা হলেন- সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সদস্য পদে সৈয়দ ফজলে এলাহী অভি, শফিকুল ইসলাম ও ফাতিমা আক্তার।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা