অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি পরীক্ষা মওকুফ দাবিতে আইনমন্ত্রীর বাসার সামনে শিক্ষানবিসদের অবস্হান

 

করোনা মহামারীর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমসিকিউ উত্তীর্ণদের ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইপূর্বক অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির দাবিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষানবিস আইনজীবীরা।

রাজধানীর বনানী এলাকায় আইনমন্ত্রীর বাসার সামনে মঙ্গলবার বিকেল থেকে  এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মুখে আইনমন্ত্রী তাদের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আইনমন্ত্রীর কাছে করোনাকালে লিখিত পরীক্ষা মওকুফ করে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে আইনজীবী তালিকভুক্তির জন্য অনুরোধ করেন।

এ সময় শিক্ষানবিস আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের জন্য কথা বলেছি। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা। সেখানে আমার কোনো কর্তৃত্ব নাই।আমি সেখানে পরামর্শ দিতে পারি, আপনাদের পক্ষে ওকালতি করতে পারি। আপনারা বলার আগে আমি আপনাদের পক্ষে ওকালতি করেছি।

আইনমন্ত্রী তার বাড়ির সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষানবিস আইনজীবীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  তিনি বলেন, আপনাদেরকে আমি বলে দিলাম আপনারা আমাকে বিব্রত করবেন না। আমি আমার প্রতিবেশিদের কাছে বিব্রত হয়ে গেছি। আমার এখন বাসা ছেড়ে চলে যেতে হবে। আপনারা  বলেন, আমি চলে যাই?

অন্যদের কাছে যেতে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা  চায় না তাদের কাছে আপনারা যেতে পারেন না।  তার কারণ হচ্ছে, কেউ সাহস করে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে না। আমি পারি। আর আপনাদের জন্যও আমি কথা বলতে পারি।

শিক্ষানবিস আইনজীবীদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আনিসুল হক বলেন, আপনারা যান, আপনাদের মতো কাজ করেন আমি উনাদের (বার কাউন্সিল) সঙ্গে কথা বলব। উনারা এখনো রাজি হন নাই আপনাদের পরীক্ষা না নেয়ার জন্য। উনারা এখনো আপনাদের পরীক্ষা নিতে চায়।  তিনি বার কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলেন।

এ সময় শিক্ষানবিস আইনজীবীরা জানান এখনই কথা বলে তাদের জানাতে হবে; আর না হয় তারা আইনমন্ত্রীর বাসার সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। শিক্ষানবিস আইনজীবীরা আইনমন্ত্রীর কাছে একটা সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকেন। তারা অনুনয় বিনয় করতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আবারও উপস্থিত হন।

ফিরে এসে আইনমন্ত্রী শিক্ষানবিস আইনজীবীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আপনারা যদি চুপ না করেন, তাহলে পরশু দিন পরীক্ষা দিতে হবে। আপনারা আমাকে দয়া করে রাগাইয়েন না। এখানে বসে থেকে তো কিছু হবে না। আমি আপনাদেরকে একটা কথা বলে দিতে চাই, আমি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে বলব না, আপনাদের পরীক্ষা নিতে বা না নিতে। আমি একটা কথা বলব তাদেরটা বিবেচনা করতে হবে।  তারা পরীক্ষা নেবে কি নেবে না, তাদের ডিসিশান।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন বিষয়টি তিনি দেখবেন। তাকে আলাপ করার সময় দিতে। তবে শিক্ষানবিসরা দাবি করেন এখনই আলাপ করে একটা সিদ্ধান্ত তাদের জানাতে হবে। এ সময় আইনমন্ত্রী তাদেরকে উদ্দেশ করে জানান, তারা চলে গেলেই তিনি বার কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলবেন।

পরে সন্ধ্যায় শিক্ষানবিস আইনজীবী আন্দোলনের নেতা আসাদুজ্জামান বলেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্যার আমাদের কাছ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় নিয়েছেন। মন্ত্রীর আশ্বাসে তার বাসভবনের সামনে থেকে আমরা চলে এসেছি।

অবস্থান কর্মসূচিতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষানবিস আইনজীবী অংশগ্রহণ করেছেন। কর্মসূচি পালনকারীরা জানান, করোনা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর মাঝে এমসিকিউ উত্তীর্ণ প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেও বার কাউন্সিল ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছর পর এমসিকিউ পরীক্ষা হলেও লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা না নেওয়ায় আমরা বেকার দিনযাপন করছি।

শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, করোনা বিবেচনায় আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে লিখিত পরীক্ষা মওকুফ করতে হবে। একইসঙ্গে ভাইভার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে শিক্ষানবিসদের আইনজীবী সনদ প্রদান করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এর আগে সকাল থেকে শিক্ষানবিস আইনজীবীরা সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান ধর্মঘট করেন। দুপুরের পর তারা আইনমন্ত্রীর বনানীর বাসার সামনে জড়ো হন।

এদিকে একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১৩৫ দিনের প্রতীকী অনশন পালন করেন। কিন্তু এরপরও কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা মশাল মিছিল করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।