Skip to content

অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ

অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

এর আগে একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে অশালীন ভাষায় কথা বলা এবং বিভিন্ন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. মুরাদ হাসানের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। বারবার বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে সমলোচনার ঝড় তোলা ডা. মুরাদ হাসানকে নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সরকারি দল। ঢাকায় দলের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মুরাদের বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা সরকারের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা তার ব্যক্তিগত মন্তব্য হতে পারে। আমাদের দল বা সরকারের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য না।

অন্যদিকে মিডিয়াতে ডা. মুরাদ বলছেন, তিনি এ বক্তব্য দিয়ে ভুল করেননি। দুঃখ প্রকাশ কিংবা ক্ষমা তিনি চাইবেন না।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অপসারণ দাবি করেছেন ৪০ জন নারী অধিকারকর্মী। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি যে মন্তব্য প্রদান করেছে তার নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। রাষ্ট্রীয় পদে আসীন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর মুখে এ ভাষা বাংলাদেশের আপামর নারীদের অপমান এবং অসম্মান করেছে বলে আমরা মনে করি। জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত বাংলাদেশের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় সংসদে, রাজনৈতিক সভায়, গণমাধ্যমে, সম্মেলনে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে পার পেয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি যৌন হয়রানিকে সমাজ এবং রাষ্ট্রে কাঠামোগত প্রতিষ্ঠিত করার বৈধতা দেওয়া হয়।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি অনলাইন মাধ্যমে নারীবিদ্বেষী, বর্ণবাদী এবং যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় আমরা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় এনে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, আমাদের দেশের নারীরা তাদের চলতি জীবনে বারবার এসব যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্যের শিকার হয়ে থাকে।

বিবৃতিদাতারা হলেন ফরিদা আখতার, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, জোবাইদা নাসরিন, নাসরিন খন্দকার, সায়দিয়া গুলরুখ, নাসরিন সিরাজ, স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, সুপ্রীতি ধর, সম্পাদক, মিথিলা মাহফুজ, বীথি ঘোষ, তাসলিমা মিজি, মুনমুন শারমীন শামস, ইশরাত জাহান উর্মি, পূরবী তালুকদার, মোশফেক আরা শিমুল, নাসরিন আক্তার সুমি, সুমি রেক্সোনা, দিলশানা পারুল, মনজুন নাহার, ফেরদৌস আরা রুমী, মাহফুজা মালা, প্রমা ইসরাত, নাইমা খালেদ মনিকা, সীমা দত্ত, তানিয়াহ মাহমুদ তিন্নী, সুমাইয়া নাসরিন সুমু, অপরাজিতা সংগীতা, অর্ণি আনজুম, শ্রবণা শফিক দীপ্তি, রিমঝিম আহমেদ, শাফিনুর শাফিন, জেসমিন দীনা রায়, রেবেকা নীলা, লামিয়া ইসলাম, অপরাজিতা সংগীতা, মারজিয়া প্রভা, প্রাপ্তি তাপসী, ইসাবা শুহরাত, নাজিফা জান্নাত, মোরসালিনা আনিকা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে অশালীন ও বর্ণবাদী মন্তব্য করায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ডা. মুরাদ হাসান ময়মনসিংহ মেডিকেলে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ডা. মুরাদের পদত্যাগ দাবি করেন।

জানা গেছে, শুধু বক্তব্য নয় আরও কিছু কাজের জন্য ডা. মুরাদ হাসান বিতর্কে জড়িয়েছেন। তিনি অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে ফোনে অশালীন ভাষায় তার সঙ্গে হোটেলে সাক্ষাৎ করতে বলেছেন। এই অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর বিতর্ক আরও বেড়েছে বাংলাদেশে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা