অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশ নয়!

অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশ নয়!
গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হাসপাতালে সদ্য যোগদানকৃত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মেহেদী ইকবাল এ নির্দেশনা জারি করেন বলে জানা গেছে।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) সকালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে শীতজনিত রোগের তথ্য ও ছবি নিতে গেলে সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও ভিডিও জার্নালিস্ট আতাউল হক সাগরকে এমন নির্দেশনার কথা জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্তব্যরত নার্সরা।

তারা জানান, ওয়ার্ডের ছবি বা তথ্য নিতে হলে অনুমতি লাগবে। তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলাও নিষেধ। এমনকি তার অনুমতি ছাড়া চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতেও বারণ করা হয়েছে। 

এর আগে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত এক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও একই কথা বলে বিদায় করে দেন।
 
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিরাপদ থাকতে কী করণীয়- এ নিয়ে জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবুল আজাদ মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক নির্দেশনা দিয়েছেন, তার অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলা যাবে না।
 
এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে কাউকে পাওয়া যায়নি। তার কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি জানান, তিনি জেলার বাইরে অবস্থান করছেন।
 
পরে একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মেহেদী ইকবালকে ফোন করা হয়। ফোনে তিনি জানান, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়ার লোকজন আসে, সেটা তার নলেজে থাকলে ভালো হয়। আপনারা কখন কি পারপাসে নিউজ বা প্রতিবেদন করছেন সেটা আমাকে আগে থেকে অবগত করতে হবে। আপনারা কখন কি নিউজ করেন, আমি হয়তো জানতেই পারলাম না। সে জন্য নিয়মটা করা হয়েছে।

মোবাইল ফোনে তিনি আরও বলেন, আপনারা তো নিউজ করবেনই। জাস্ট আমাকে ইনফর্ম করা কখন, কী প্রতিবেদন করছেন।

হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা- এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ম নাকি আপনার নিয়ম এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার স্বার্থে করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্নার থেকে তো বিভিন্ন সাংবাদিকরা আসে, সেটা প্রতিষ্ঠান প্রধানের নলেজে থাকা ভালো।

আপনি যখন ব্যস্ত থাকবেন বা রাতে কোনো ঘটনা ঘটলে তখন আপনাকে পাওয়া যাবে কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, তিনি রংপুরে আছেন, কাল সামনাসামনি কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

এমন সিদ্ধান্ত সঠিক নয় দাবি করে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু বলেন, এর আগে কখনোই হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন ঘটেনি। সবসময় অনুমতি নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ কিংবা ছবি নেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি সনাকের জেলা সহসভাপতি অশোক কুমার সাহা বলেন, অনুমতি ছাড়া ছবি নেওয়া যাবে না, চিকিৎসকরা কথা বলবেন না, এটি একটি উদ্ভট সিদ্ধান্ত।

DMCA.com Protection Status

সূত্র: সময় টিভি

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email