Skip to content

অধিকার আছে নেই স্বীকৃতি, নিভু নিভু ধর্মের বাতি

অধিকার আছে নেই স্বীকৃতি, নিভু নিভু ধর্মের বাতি

রাষ্ট্রের দায়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারহা তানজীম তিতিলের মতে, ‘রাষ্ট্রের অবহেলায়’ বাংলাদেশ তার জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের বৈচিত্র্য হারাচ্ছে। তিতিল একজন অধিকার কর্মী এবং আদিবাসীদের ওপর তার লেখালেখি গবেষণাও রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের অমনোযোগ এবং আগ্রাসনের বিপরীতেই ছিল মিশনারি সংগঠনগুলোর ভালোবাসা প্রদর্শন। মধুপুরের বনে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে, এমন কি সিলেটের খাসি পুঞ্জিগুলোতে বাঙালির বসতি বাড়ানো হচ্ছে। বন-পাহাড় হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রের সম্পত্তি, উদ্বাস্তু হচ্ছে সেখানকার আদিবাসীরা।”

তিতিল বলছেন, টিকে থাকার জন্য নাগরিক জীবনে অভ্যস্ত হওয়া, স্কুলে যাওয়া এবং বিকল্প সংগঠিত বন্ধুর হাত ধরার চেয়ে ভালো উপায় এই আদিবাসীদের ছিল না।

“রাষ্ট্রের প্রান্তিক নাগরিক হওয়ার চেয়ে, উপজাতি নাম পাওয়ার চেয়ে ধর্ম বদলে আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত একটি শক্তির অংশ হিসেবে গর্বিত হওয়াটা হয়তো যৌক্তিক মনে হয়েছে সমঝোতায় অভ্যস্ত মানবজাতির এই দলগুলোর কাছে, অনিবার্য কারণেই সর্বপ্রাণে বিশ্বাসী বহুত্ববাদী ধর্মগুলোর বিপর্যয় ঘটেছে।”

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেনেরও দাবি, মৃতপ্রায় ধর্মগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায় নিতে হবে রাষ্ট্রকে, বিশেষ করে সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়কে।

তিনি জানান, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভানগাছি ইউনিয়নের বাঁশাবাড়িয়া গ্রামে একটি মৗঞ্জহি থানের (সাঁওতাল উপাসনালয়) জন্য ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।

“ওই একটি অনুদানের তথ্যই আমার জানা আছে। সেটিও পাওয়া গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। ধর্ম মন্ত্রণালয় তো কার্যত একটি ধর্মের মন্ত্রণালয়ে পরিণত। তাও মুসলিমদের বাইরে মন্ত্রণালয়টির কিছু কর্মকাণ্ড রয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের জন্য। আমাদের কথা জানা নেই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের।”

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান অবশ্য এটাকে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ বলে দাবি করলেন। তিনি বলেন, “মুসলমানরা মনে করেন ধর্ম মন্ত্রণালয় শুধু তাদের, অথচ দেখে সংখ্যালঘুর স্বার্থ। আবার অন্য ধর্মের লোকজন ভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয় তাদের জন্য কিছুই করে না। আমি নিজে গুরুদুয়ারায় গিয়ে এলাম।

“তবে আপনার কাছ থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যে ধর্মগুলোর কথা শুনলাম, তাদের জন্য খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন দান-অনুদান দেওয়া হয়। তারা আমার কাছে কোনো সময় আসে নাই। এলে তাদের আবেদনও বিবেচনা করা হবে।”

বার্তা সূত্র