Skip to content

অধিকারের আদিলুর রহমান ও এলানকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

অধিকারের আদিলুর রহমান ও এলানকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদের একক বেঞ্চ এই জামিন আদেশ দেন। আদালতে আদিলুর রহমান ও নাসির উদ্দিন এলানের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও আইনজীবী মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালত।

একই সঙ্গে, তাদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আদিলুর রহমান খান ও এ এস এম নাসির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে, ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের দেয়া দুই বছরের কারাদণ্ড চ্যালেঞ্জ করে সাজা বাড়াতে হাইকোর্টের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে, এই মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে জামিন চান আদিলুর রহমান খান ও এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান। মঙ্গলবার আদিলুর রহমান ও এলানের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে, তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকার শাপলা চত্বরে, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে ২০১৩ সালের ১০ জুন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর পর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে অসত্য ও বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগে আদিলুর রহমান খান ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এই মামলায় পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, আদিলুর রহমান ও নাসির উদ্দিন ৬১ জনের মৃত্যুর বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচার করে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছেন।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটানোর অপচেষ্টা চালিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন। পাশাপাশি তারা মুসলমানদের মনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করেন; যা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(১) ও (২) ধারায় অপরাধ।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা