Skip to content

অগ্নিসন্ত্রাসে জড়িতদের মামলা দ্রুত শেষ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অগ্নিসন্ত্রাসে জড়িতদের মামলা দ্রুত শেষ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত, সেই মামলাগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে, এটাই আমার অনুরোধ। তাদের শাস্তি কেন দেরিতে হবে? আগে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল, এখন আন্দোলনের সুযোগে সামনে এসেছে। মামলায় যেন তারা সাজা পায়। এটা আপনাদের কাছে আমার দাবি।

শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনজীবী মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সড়ক, রেল, স্কুল, কলেজ মসজিদ, মাদারাসাসহ সব জিনিস গড়ে তুলে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় তিনি বিচার বিভাগের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিলেন। মাত্র ১০ মাসের মাথায় তিনি দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেন। যেটা সারা বিশ্বে বিরল। কোনো দেশ এত দ্রুত সংবিধান দিতে পারেনি। জাতির পিতার হাত ধরেই বাংলাদেশে বিচার কাঠামোর গোড়াপত্তন।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতা শুধু সংবিধানই দেননি, সাথে সাথে ‘৭২ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাক্টিশনার অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অ্যান্ড রুলস ১৯৭২ জারি করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩ সালে ৪৪ শতাংশ জমি বরাদ্ধ দেন। ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করে বেনেভোলেন্ট ফান্ড গঠন করেন। তখন ৫০ হাজার টাকার অনেক মূল্য। আইনজীবীদের কল্যাণ ফান্ডও তিনি তৈরি করে দিয়ে যান। তার অবদান সকলেরই মনে রাখা উচিত।

শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানবধিকার, ন্যায় বিচার, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, স্বাস্থ্য সমস্ত কিছু জাতির পিতা করে দিয়ে গেছেন। সমুদ্র সীমায় আমাদের যে অধিকার রয়েছে, সে সমুদ্র সীমা আইন তিনি ‘৭৪ সালে করে দেন। জাতিসংঘ করেছিল ১৯৮২ সালে। আমাদের স্থল সীমানা চুক্তি, আইন করে এবং সংবিধান সংশোধন করে এই স্থল সীমায় আমাদের যে অধিকার সেটাও তিনি প্রস্তুত করে যান। যুদ্ধপরাধীর বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সেই যুদ্ধপরাধীদের বিচারকাজও তিনি শুরু করেছিলেন। আর সেজন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তিনি করে দিয়ে গেছেন। আমি নিজেও অবাক হই, একটা মানুষ কীভাবে এত কাজ করেছেন!

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, পাকিস্তান আমলে আইন ছিল, জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীরা যেতে পারবেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে আইন পরিবর্তন করে নারীরাও যেন জুডিশিয়ালে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করেন। তারই পধ ধরে সর্বপ্রথম ২০০০ সালে আমরাই ব্যবস্থা করে দিই, নারীরা যেন উচ্চ আদালতে বিচারপতি হতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। আমরা যারা ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে স্বজন হারিয়েছি, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের বিচার পাওয়ার অধিকার ছিল। কিন্তু সে অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১৫ আগস্ট আমি আর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম, বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে বাঁচা বাঁচার মতো না। ‘৮১ সালে দেশে আসার সুযোগ পাই। রেহানার পার্সপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জিয়াউর রহমান তার পাসপোর্ট দেয়নি। আমার অবর্তমানে আওয়ামী লীগ যখন ৮১ সালে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, তখন আমি এমন একটা দেশে ফিরে এসেছিলাম, যেখানে পিতা-মাতা-ভাইদের হত্যা করেছিল, কিন্তু সে হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, আর তারা ক্ষমতায়। আপনারা একবার ভেবে দেখেন, যেখানে আমি বাবা-মা হত্যার বিচার পাবো না সে আইন রয়েছে, যেখানে যুদ্ধপরাধীদের মুক্ত করে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে…. এসেছি শুধু একটা কারণে, জাতির ওপর যে বিচারহীনতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সাথে সাথে বাংলার দুখী মানুষদের পরিবর্তন হয়নি, এদেশের আপামর জনতা শোষণ-বঞ্চনার শিকার ছিল। আমি তাদের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্ত করতে দেশে এসেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর অনেক সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সুযোগ পায়। ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিই। আমরা স্বতন্ত্র মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালত, স্থায়ী আইন কমিশন ও বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করি এবং আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ প্রণয়ন করি। সরকারি আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০ কল সেন্টার গঠন করি।

এ সময় আইনজীবীদের বেনেভোলেন্ট ফান্ডে ত্রিশ কোটি টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানান, আন্দোলনের নামে বিএনপি বা জামায়াত যদি আবার সন্ত্রাস শুরু করে তাহলে ছেড়ে দেয়া হবে না।

/এমএন



বার্তা সূত্র